নিউ ইয়র্কে উত্তাপ ছড়াচ্ছে দেশীয় রাজনীতি

জাতিসংঘ অধিবেশন

নিউ ইয়র্কে উত্তাপ ছড়াচ্ছে দেশীয় রাজনীতি

ফন্ট সাইজ:

‘ভাই দেখেন দেখেন, এই ব্যানার-পোস্টারের কী অবস্থা? দেশের রাজনীতি বিদেশে এসেও ভুলতে পারছি না আমরা! সেপ্টেম্বর এলে সরকার প্রধান আসেন জাতিসংঘে, আর আমরা গালাগালি-মারামারিতে জড়িয়ে পড়ি একজন আরেকজনের সঙ্গে!
প্রতি বছরই একই চিত্র । দল ঠিক থাকে, শুধু শ্লোগান পাল্টে যায়! আগে যে স্বাগত জানাতো সে এখন প্রতিরোধ করতে চায়। আর আগে যে প্রতিরোধ করতে শ্লোগান দিতো এখন তারা স্বাগত জানায়!
নিউ ইয়র্কের বাঙালী এলাকা বলে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন এক ক্ষুব্ধ প্রবাসী । সিলেটের বাসিন্দা ওই প্রবাসীর আক্ষেপ— আমেরিকার মাটিতে এসেও আমরা দেশের রাজনীতি থেকে বের হতে পারছি না !
শুধু ওই প্রবাসী নন, নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে পক্ষে-বিপক্ষে সভা-সমাবেশ মিছিল শ্লোগানে সাধারণ প্রবাসীরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সোস্যাল মিডিয়াতেও ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও বৈরিতা এবারও বয়ে চলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে। সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ কয়েক দশকের ধারাবাহিকতায় এবারও একপক্ষ সরকার প্রধানকে স্বাগত জানাতে এবং অন্য পক্ষ বিরোধীতা করার পূর্ণ শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ।
বিএনপির নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এবং সফরকে সফল করতে উচ্ছ্বসিত যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি নেতাকর্মীরা। ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার দিনে জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
তবে ব্যয়সংকোচন নীতি নিয়ে কোনো নাগরিক কিংবা দলীয় সংবর্ধনায় অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট ।
এছাড়া গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী নিয়ে বিমানবন্দরে বিব্রত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় । তবে এবার যাতে প্রতিপক্ষ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে এজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দলীয়ভাবেও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু ।
অপরদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও অবস্থান নেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রতিবাদে তারা সভা সমাবেশ করেছে।

এদিকে প্রতি বছরই জাতিসংঘের অধিবেশন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের আগমন ঘটে নিউ ইয়র্কে। তবে বাংলাদেশিদের পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনায় বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন সাধারণ প্রবাসীরা।
সিনিয়র সাংবাদিক ও দেশ এর সম্পাদক মিজানুর রহমান মানবজমিনকে জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরকারপ্রধান যোগ দেয়া স্বাভাবিক ঘটনা । কিন্তু এই স্বাভাবিক ঘটনাকে আমরা অস্বাভাবিক বানিয়ে ফেলি । কেউ পক্ষে -কেউ বিপক্ষে, এমনকি হাতাহাতি মারামারিতেও জড়িয়ে পড়ে আমরা । ফলে একদিকে যেমন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তেমনি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের রাজনীতির নেতিবাচক ধারণা জন্ম দিচ্ছে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক বৈরিতা প্রদর্শন না করে দুই পক্ষেরই সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
প্রসঙ্গত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।