সিলেটের প্রাণকেন্দ্র থেকে কারাগার সরিয়ে নিতে বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণ করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তখন বলা হয়েছিল জেল রোডে থাকা কারাগারে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। বাস্তবতাও ছিল তাই। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ, তিনগুণ বন্দি রাখা হতো সিলেটের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ফলে ওই সময় দ্রুততম সময়ে জমি অধিগ্রহণ করে বাদাঘাটে কারাগার নির্মাণ করে সেখানেই বন্দি স্থানান্তর করা হয়। বন্দি স্থানান্তরের পর পুরনো কারাগার অব্যবহৃত থাকে। এরপর সেখানে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন আবুল মাল আবদুল মুহিত আর মন্ত্রী নন।
রাজনীতিকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে তার উদ্যোগ থেমে থাকেনি। তিনি সেখানে পার্ক নির্মাণের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি চালাচালি করেন। এরই মধ্যে জেলের উত্তর পূর্ব অংশের দীঘিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। ধোপাদীঘিকে রক্ষা এবং চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করেন সাবেক মেয়র ও বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিজেদের ভূমি দাবি করে ধোপাদীঘির পশ্চিম অংশের কাজ আটকে দিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সিটি মেয়র ও কারা কর্তৃপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে নিয়েছিল। তবে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন নাছোরবান্দা। তিনি ধোপাদীঘিকে রক্ষা করতে কাজ অব্যাহত রাখেন। তখন সরকারেরও সহযোগিতাও মিলে। শেষে আরিফুল হক চৌধুরী ধোপাদীঘির চার দিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেন।
যেটি এখন সিলেট নগরের একটি নান্দনিক ওয়াকওয়ে। যেখানে বিকাল হলেই ঢল নামে পর্যটকদের। দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় সকাল ও বিকালে অনেকেই হাঁটতে যান সেখানে। অদৃশ্য কারণেই আটকে যায় পার্ক নির্মাণের বিষয়টি। সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে কেউ আর কার্যক্রম চালাননি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী ও বর্তমান বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ধোপাদীঘি নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। বলেছিলেন নির্বাচিত হলে পুরনো কারাগারে পার্ক নির্মাণ করবেন। তবে তার আগেই কারা কর্তৃপক্ষ অব্যবহৃত ওই স্থানকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ নামে চালু করে। বর্তমানে সেখানে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার কয়েদিদের রাখা হয়। অবশেষে কথা রাখলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কারা কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই এ কারাগার ছাড়তে রাজি নয়।
পূর্বের অবস্থানের মতো তারা বর্তমানেও অনড়। সিদ্ধান্ত এসেছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। সিলেটের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন- বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও ওয়াকিবহাল। নগরের ফুসফুস বলা হচ্ছে কারাগারের স্থানকে। এখানে পার্ক হলে নগরের মানুষ হাঁটা-চলার জায়গা পাবে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত এসেছে পুরনো কারাগার-২ এর ভূমি সিলেট সিটি করপোরেশনকে সমঝে দেয়া হবে। আর সিটি করপোরেশন সেখানে পার্ক করবে। বৈঠকের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ ভূমি নিয়ে মহাপরিকল্পনা শুরু করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ডিজাইনসহ নানা কাজ শুরু করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী শুক্রবার বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পুরনো কারাগার নিয়ে পরিকল্পনা নয়, মহাপরিকল্পনা হবে। এখানে পার্ক নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি যুগান্তকারী।
আমি ও মন্ত্রী মিলে অসাধ্যকে সাধন করেছি। তিনি বলেন- কারাগারের দেয়াল থাকবে না। ভেঙে ফেলে উত্তর অংশের সড়ক প্রশস্ত করা হবে। এরপর ভেতরে নির্মাণ করা হবে পার্ক। যেখানে মানুষ নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করবে। আর ভেতরে করা হবে মাহবুব আলী খান জাদুঘর। অনেক স্মৃতি রয়েছে এই কারাগারের। সব সংরক্ষণ করে জাদুঘর নির্মাণ করা হলে মানুষ অনেক ইতিহাস জানবে। তিনি বলেন- ওয়াকওয়ে, ওসমানী শিশুপার্ক, নতুন পার্কসহ সব কিছু এক প্যাকেজের ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু আমরা প্রস্তুত করছি। এরপর অনুমোদিত হলে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
