রংপুর অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ আজ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের পর এবার রংপুর অভিমুখে সাত দফা দাবিতে লংমার্চ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আজ সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে। কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুল ইসলাম। এদিকে চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আমরা সফল করবো বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল লংমার্চ উপলক্ষে সাংবাদিকদের বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির রুটে থাকা সকল জেলা ও মহানগরী শাখায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। লংমার্চের বহর রংপুর অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রওনা হয়ে পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে এবং সমাপনী সমাবেশ হবে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে। গতরাতে আমরা দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। জনগণের ব্যাপক সাড়া ও প্রশাসনের সহযোগিতা পাবো বলে আমাদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছি। বর্তমানে আরেকটি দফা যুক্ত হয়ে সাতটি হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তরবঙ্গ অভিমুখী লংমার্চে ও অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবির কারণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেতৃবৃন্দ।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অথবা কোনো ভীতিতে রয়েছে তা অবিলম্বে দূর করে সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সব ধরনের পদক্ষেপ যাতে গ্রহণ করেন সেজন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার জন্য এবং পথের ধারে অভিবাদন জানাতে কোটি কোটি মানুষ এখন প্রস্তুত। মহিলারাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাবে বলে আমরা খবর পেয়েছি। লংমার্চের বহরে হাজারের অধিক গাড়ি যুক্ত হবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। গাড়িগুলোর জন্য নির্দেশনা প্রদান ও দায়িত্বশীল ঠিক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ লংমার্চকে যেন কোনোভাবে বাধার সৃষ্টি বা অন্তরায় সৃষ্টি না করা হয়। লংমার্চের বহরে থাকা আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেছি যাতে তারা কারও উস্কানি বা হাজারো উস্কানিতে পা না দেন। চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আমরা সফল করবো।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হই, গায়ে যদি আঘাতও লাগে প্রতিশোধের চেয়ে লংমার্চ সফল করার মধ্যে সার্থকতা বেশি। এজন্য সরকারি দল বিএনপি, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক, রাস্তার দু’ধারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতির বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। লংমার্চে দেশবাসী ও ১১ দলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সফল করার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।