জাপানে ভালোই আছে ‘বাংলাদেশ’

জাপানে ভালোই আছে ‘বাংলাদেশ’

ফন্ট সাইজ:

 প্রথমবারের মতো প্রচলিত অ্যাথলেটস ভিলেজ ছাড়াই আইচি নাগোয়ার এশিয়ান গেমস আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল জাপান। আলাদা করে বিশাল অ্যাথলেটস ভিলেজ নির্মাণ না করে হোটেল, অস্থায়ী কন্টেইনারধর্মী আবাসন এবং কোস্টা সেরেনা ক্রুজে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের রাখছে তারা। এটা করতে গিয়েই বিপাকে পড়েছে আয়োজকরা। বছর পাঁচেক আগে করোনা সময়ে সফলভাবে অলিম্পিক আয়োজন করা দেশটি এশিয়ান গেমসে পদে পদে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে আবাসন নিয়ে ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ প্রশ্ন তুলেছে।

শুরুতে খেলোয়াড়-কর্মকর্তা মিলিয়ে ১৫ হাজার অংশগ্রহণকারী ধরেই আবাসনের পরিকল্পনা করেছিল জাপান। ওই তালিকা অনুযায়ী ৯ হাজার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাকে হোটেলে, ৪ হাজার ক্রুজে, বাকি দুই হাজার কন্টেইনারে রাখার পরিকল্পনা ছিল আয়োজকদের। কিন্তু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২ হাজার বেড়ে যাওয়ার কারণে ভারত সহ কয়েকটি দলকে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে। হোটেল লবিতে রাত কাটানোর খবরও পাওয়া গিয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে কিছুটা নির্ভার আছে বাংলাদেশ। গতকাল গিফুতে হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা জানান, আবাসন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নাই। আমাদের ডেলিগেশন কর্মকর্তারা অনেক আগে এসে সব কিছু ঠিকঠাক ব্যবস্থা করেছে। নারী হকি দলের ম্যানেজার বদরুল ইসলাম দিপু গেমসের আবাসন নিয়ে খানিকটা রসিকতা করে বলেন, আছি ভালোই, ফকিরেরপুল হোটেলের মতোই।

জিমন্যাস্ট দল রয়েছে ক্রুজে। নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগই করছে জিমন্যাস্ট দলনেতা হাবিবুর রহমান জামিল। ক্রুজের পাশে মেইন মিডিয়া সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে জামিল বলেন, গেমস কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাধারণত হোটেলেই থাকা হয়। এই গেমসে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। তেমন সমস্যা হচ্ছে না। আমরা ভালো আছি। ১১টি ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটরা আছেন ক্রুজে। যার সবক’টিতে আছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের কন্টিনজেন্টের প্রেস অ্যাটাচি দিগজিত সিং আবাসন নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, অনেক রুম খুবই ছোট যা অ্যাথলেটদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। টেবিল টেনিস, রোইংসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিন এই সমস্যায় পড়েছিল। সেটা অনেকটা কাটিয়ে উঠছে। দু’দিন আগে কিছু ছবি ছড়িয়েছে ভারতের কন্টিনজেন্টের অনেকে ফ্লোরে রয়েছে। এটা নিয়ে খবরও ছাপিয়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে এটা ভুল তথ্য দাবি প্রেস অ্যাটাচি। তিনি বলেন, ভারত নয় এটা নিশ্চিত করে বলছি, অন্য দল। তবে ভারত ক্রিকেট দলকে হোটেল রুম শেয়ার করে থাকতে হচ্ছে, এটা স্বীকার করেছেন ভারতের এই কর্মকর্তা।
তবে আবাসন না হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বেশ অসন্তোষ বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টে।

সাধারণত একটি দেশের কন্টিনজেন্ট প্রধান শেফ দ্য মিশন সার্বক্ষণিক গাড়ি পেয়ে থাকেন। জাপানে সেই সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, গাড়ির জন্য আগে রিকুইজিশন দিতে হয়, এরপর পাওয়া যায় কিনা নিশ্চিত থাকা যায় না। ভাষাগত সমস্যার জন্য বুঝিয়ে বলাও অনেক সময় দুষ্কর হয়। মহাসচিবের এমন মন্তব্যের এক ঘণ্টা পরই প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। হকি স্টেডিয়াম থেকে জাপান সময় দুপুর একটায় মিডিয়া বাস ছিল। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগে গিয়েও বাস পায়নি। ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে এক ঘণ্টা আলাপের পর বাসের ব্যবস্থা হয়। হকি স্টেডিয়াম নাগোয়া থেকে অনেক দূরে। গিফুর মধ্যে থেকেও নারী হকি দলের কর্মকর্তাদের ২০ হাজারের মতো ইয়েন খরচ হয়েছে জিমিদের ম্যাচ দেখতে।