মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারত ও জাপানের মধ্যে পার্থক্যটা স্পষ্ট। বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ভারত যেখানে তৃতীয়, বিপরীতে ৩৯তম স্থানে জাপান। এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিমত্তার ছাপই দেখা গেল। জাপানের করোগি স্পোর্টস পার্কে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের নারী ক্রিকেট দল তুলে মাত্র ৫৭ রান। ভারতের মেয়েরা এই রান মাত্র পাঁচ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলে। ৮ উইকেটের বড় জয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ভারত। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এ ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০শে সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। একই দিন অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। কিছুদিন আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হার দেখে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। জাপানে সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ টাইগ্রেসদের। এর আগে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে চীন-বাংলাদেশ ম্যাচে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে পা রাখে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। তার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন বোলাররা। বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চরণী ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং করেন। মাত্র ১০ রান দিয়ে তিনি নেন ৪ উইকেট। এর মধ্যে দু’টি মেডেন ওভারও ছিল তার। চরণীর সঙ্গে জাপানের ব্যাটারদের চাপে রাখেন শেফালি ভার্মা। ডানহাতি এই স্পিনার ১৩ রানে নেন ২ উইকেট। পাওয়ারপ্লেতে ২৪ রান তুলেও কোনো উইকেট হারায়নি জাপান। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।
জাপানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন ওপেনার আয়াকা কাতো-স্ট্যাফোর্ড। তবে পুরো ইনিংসে মাত্র তিনটি চার মেরেছে জাপান। এর মধ্যে দু’টি আসে স্ট্যাফোর্ডের ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয় তারা। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই অবশ্য উইকেট হারায় ভারত। ওপেনার গুনালান কামালিনি কোনো রান না করেই ফেরেন। তবে শেফালি ভার্মা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন শেফালি। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দু’টি ছক্কা। রিচা ঘোষও ৬ বলে অপরাজিত ১২ রান করেন। ফলে মাত্র পাঁচ ওভারে ৫৯ রান তুলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ভারত। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশ নারী দল এ পর্যন্ত তিনবার পদক জেতে। ২০১০ সালে পাকিস্তানের কাছে ফাইনালে হেরে রৌপ্য পায় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ২০১৪ সালে একই ফলের পুনরাবৃত্তি হয়। সবশেষ ২০২২ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ লাভ করে।
