আজকের পত্রিকার শিরোনাম - ইউনিয়ন পরিষদ ভোট এ বছর সম্ভব নয়। এতে বলা হয়, আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন ( ইসি ) । তবে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোট শুরু হচ্ছে না । সরকারের তরফ থেকে ইসিকে জানানো হয়েছে , বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চলতি বছর ইউপি নির্বাচন করার মতো প্রস্তুতি নেই । ভোট করার জন্য প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে , তা জানাতেও এক মাস সময় লাগতে পারে । স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ঠাকুরগাঁও -১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে বৈঠক করেছে কমিশন । সভায় সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন । রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ( সিইসি ) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয় বেলা আড়াইটার পর । সভা চলে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ।
সভা শেষে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ( অব . ) আবুল ফজল মো . সানাউল্লাহ জানান , নির্বাচনের জন্য আগে সময় বের করতে হবে । নভেম্বর - ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায়
মাঝে সময় কম । জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে । এসএসসি পরীক্ষা শেষে ৬ জুন থেকে এইচএসসি শুরুর আগেও কিছুটা সময় পাওয়া যাবে । এর মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে । এ বিষয়ে সভায় সম্মত হয়েছেন । ইসি গত রবি ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ জানায় । ইসির ঘোষণা অনুযায়ী , সম্ভাব্য তারিখগুলো ছিল — প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর , দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর , তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর , চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি , পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি , ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে । তবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হবে । সেই সভা হয়েছে গতকাল । সভায় সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন । এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব , জনপ্রশাসন সচিব , শিক্ষাসচিব , আইজিপিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন । বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে সচিবেরা ভোট আয়োজন নিয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র । তাঁরা বলেছেন , এ বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করা সম্ভব নয় । আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শেষ করতে ডিসেম্বর নাগাদ সময় লাগবে । উল্লেখ্য , স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে গত বুধবার থেকে সারা দেশে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ । বৈঠক সূত্র জানিয়েছে , নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সচিবদের কাছে ভোট করার সুবিধামতো সময় কখন হতে পারে জানতে চাওয়া হয় । এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান , নভেম্বর বা
ডিসেম্বরে ভোট করার মতো প্রস্তুতি তাদের নাই । ভোট করার জন্য প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে তা জানাতে এক মাস সময় লাগতে পারে । শিক্ষাসচিব জানান , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার প্রভাব এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি । পাশাপাশি ভোট গ্রহণে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন । আগামী নভেম্বর - ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা , বৃত্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা রয়েছে । শিক্ষকেরা ব্যস্ত থাকবেন এসব নিয়ে । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হলে পরীক্ষায় ব্যাঘাত হতে পারে । তাই নভেম্বর - ডিসেম্বরে ভোট করা সম্ভব নয় । সূত্র জানান , হঠাৎ ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব । তিনি বলেন , ইসি সব সময় বলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু করবে । তাই সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিলে ভালো হতো । তখন সিইসি বলেন , এটা একেবারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত । নির্বাচনের জন্য অর্থ বরাদ্দ- সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে জনপ্রশাসন সচিব সভায় জানান , অর্থসচিব বৈঠকে আসেননি । তাহলে সবকিছু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে ? জানা গেছে , বৈঠকে উপস্থিত দুজন নির্বাচন কমিশনার চলতি বছরের ইউপি নির্বাচন শুরু করার বিষয়ে মত দেন । বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো . সানাউল্লাহ বলেন , ‘ এবার সম্ভাব্য সময়ের মধ্যকার ব্যবধান খুব সংক্ষিপ্ত । এত সংক্ষিপ্ত মধ্যে কীভাবে আমরা সব ব্যবস্থা করব , এটা নিয়েই আরও একটু কাজ করার দরকার আছে । ” তবে ইউপি নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে ইসি সরে এসেছে কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন , ‘ মোটেও না । ' তিনি আরও বলেন , “ আমি তিনটা শব্দ বলেছিলাম , এটা একটা সম্ভাব্য শিডিউল । এবং বলেছিলাম , এটা প্রাক্ - প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে প্রস্তুত করা । আমরা বলেছিলাম যে ১৭ তারিখের বৈঠকের পর এটা চূড়ান্ত করা হবে । ' এ বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন , ‘ আমাদের প্রাথমিক যে পরিকল্পনাটা ছিল , সে পরিকল্পনার ওপরে তাঁরা সবাই মতামত দিয়েছেন । আমরা এটা নিয়ে কমিশনেও বসব । ' স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন , ‘ অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন , তখন সেটা করব । ' ঠাকুরগাঁও -১ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান কমিশনার সানাউল্লাহ । তিনি বলেন , ‘ সেখানে সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী থাকবে । ” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক বাতিল : নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠক বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন । গতকাল ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা চিঠিতে বলা হয় , ঠাকুরগাঁও -১ আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ায় ২১ সেপ্টেম্বরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা বাতিল করা হয়েছে । চিঠিটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব , মহাপুলিশ পরিদর্শক , স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার , বিজিবি , কোস্ট গার্ড , আনসার - ভিডিপি , ডিজিএফআই , এনএসআই , এনটিএমসি ও র্যাবের মহাপরিচালক এবং এসবি , ডিবি ও সিআইডির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শককে পাঠানো হয়েছে ।
প্রথম আলোর একটি শিরোনাম - দর ফাঁস, সমঝোতার দরপত্র, বাড়তি ব্যয় ২৫২ কোটি টাকা। এতে বলা হয়, বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর ঠিকাদারি কাজের একটি বড় অংশ ভাগাভাগি করার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারেরা সরকারের প্রাক্কলিত দর আগেই জেনে গিয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী তাঁরা কিছুটা কম–বেশি করে দর দাখিল করে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।
মাঝপথে প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। শুরুতে সরকার একটি প্রাক্কলিত দর ঠিক করেছিল, তা ফাঁস হয়ে যায় এবং ফাঁস হওয়া দর দেখে ঠিকাদারেরা তা বৃদ্ধির জন্য চাপ দেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সেটি মেনে নিয়ে প্রাক্কলিত দর বাড়িয়ে দেয়। পরে ঠিকাদারেরা সমঝোতা করে দরপত্র দাখিল করে কাজ ভাগাভাগি করেন।
দর ফাঁস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এনসিটিবির একজন সদস্য। অন্যদিকে সরকারি খাতে ক্রয়বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক্কলিত দর ঠিকাদারদের জানার কথা নয়। মাঝপথে দর বাড়ানো নিয়ম অনুযায়ী হয়নি; আর প্রতিযোগিতা কম হলে সরকারের কাজের ব্যয় বেড়ে যায় এবং গুণগত মান খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাক্কলিত মূল্যবৃদ্ধি ও কাজ ভাগাভাগির ফলে শুধু মাধ্যমিকের বই ছাপাতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান প্রথম আলোকে বলেন, এবার অনিয়মের কারণে সরকারের খরচ অনেক বাড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘মনে হয়েছে, এবার আমার কাজ করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, তাই অংশ নিইনি।’
সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বই ছাপানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠত। কোনো কোনো বছর বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
২০২৭ সালের জন্য ছাপানো হবে প্রায় ৩১ কোটি বই। মাধ্যমিকের বইয়ের সংখ্যা ২২ কোটির বেশি, বাকিগুলো প্রাথমিকের। বই ছাপার এ কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য, বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া। এ জন্য নভেম্বরের মধ্যে জেলা ও উপজেলায় বই পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
বিনোদনে লাগাম, ধারদেনায় চলছে সংসার- পুষ্টির চেয়ে ক্ষুধা মেটানোই বড় চিন্তা। এটি যুগান্তরের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলছে না সাধারণ মানুষের। নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চিকিৎসা, পরিবহণ ও শিক্ষাব্যয়। সংসারের খরচ সামলাতে একের পর এক প্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই করছেন নিু ও মধ্যবিত্তরা। খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস; কমছে ফলমূল কেনা। ফলে পুষ্টির চাহিদার চেয়ে পেট ভরার খরচ মেটানোই যেন হয়ে উঠেছে বড় চিন্তা। পাশাপাশি বিনোদনেও লাগাম টানতে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানোও অনেকের কাছে এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খরচ কমাতে ঈদকেন্দ্রিক হয়েছে জামা-জুতা কেনা। জরুরি নয়-এমন সব কেনাকাটা বন্ধ করেও মাস শেষে হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেকে। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে ধারদেনা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের সবশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবুও ২০২৫ সালের আগস্টে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, সেই একই পণ্য ২০২৬ সালের আগস্টে কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধির হারও আগস্টে কমেছে। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। একই পরিমাণ আয় দিয়ে কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয়। তখন মানুষ প্রথমে বিলাসী ব্যয় কমায়, পরে প্রয়োজনীয় পণ্যেও কাটছাঁট করে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়ে পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানে। ক্রমাগত ব্যয় সংকোচনের মধ্য দিয়ে শুধু জীবনযাত্রার মানই নয়, মানুষের সামাজিকতা ও মানসিক স্বস্তিও সংকুচিত হচ্ছে। বাজারের চাপে একদিকে যেমন পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় ভোগ কমছে, অন্যদিকে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকিত্বে দিন কাটছে মানুষের।
তোফাজ্জলকে ভাত খাইয়ে পিটিয়ে হত্যার দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার। আগামীর সময়ের শেষ পাতার একটি শিরোনাম। এই খবরে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিযুক্ত ২৮ আসামির মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হলেও তারা এখনো অধরা। বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে ‘চোর সন্দেহে’ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
নিহত তোফাজ্জলের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার বললেন, ‘দুই বছর হয়ে গেল, এখনো বিচার শুরু হয়নি। এভাবে চললে কীভাবে বিচার শেষ হবে। আমরা দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার চাই।’
আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দাখিল করা হয়। এরপর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হলের মূল গেট দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে প্রবেশ করেন। এর ৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর হলের মাঠে ঢোকেন। খেলা পরিচালনা মঞ্চের পাশ দিয়ে খেলার মাঠে বসার ৫৭ সেকেন্ড পরই ছাত্ররা চোর সন্দেহে তাকে মারতে থাকেন। সেখান থেকে উত্তেজিত ছাত্ররা তাকে মূল ভবনের দিকে নিয়ে যান। ২৫ মিনিট জেরা ও মারধরের পর একদল ছাত্র বুঝতে পারেন মোবাইল ফোন চোরের সঙ্গে এ আসামির সম্পর্ক নেই। পরে তাকে হলের ক্যান্টিনে খাওয়ানো হয়। খাওয়ানো শেষে আবার ভুক্তভোগীকে মারা হয়। শিক্ষকরা এসে ছাত্রদের বুঝিয়ে ভুক্তভোগীকে নেওয়ার চেষ্টা করে প্রথমে ব্যর্থ হন। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তোফাজ্জলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঝটিকা মিছিল আতঙ্কে পুলিশ কর্মকর্তারা। ইত্তেফাকের শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঝটিকা মিছিল এখন পুলিশ কর্মকর্তারা আতঙ্কে রয়েছেন। কারণ ঊর্ধ্বতনরা ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো এলাকায় ঝটিকা মিছিল হলে তার দায় ডিসি-ওসিকে নিতে হবে। ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু হয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় কখনো ঝটিকা মিছিল হবে, কাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এমন আলোচনা চলছে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে। অনেক কর্মকর্তাই এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমন অস্থিরতার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এসবি প্রধানসহ পুলিশের ১১ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে ‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’—এমন বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) লোকজন ঝটিকা মিছিল করলে তার দায় ঐ থানার ওসি ও এলাকার ডিসিকে নিতে হবে। কমিশনারের এই বক্তব্যের পর ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। গুলশানে ঝটিকা মিছিল হওয়ায় গুলশাল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়। যদিও সংযুক্তির আদেশে সরাসরি বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়ে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ঠিক না। এমনিতেই পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই সময় এভাবে পুলিশকে চাপ দিলে ভালো ফল হবে না। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা উচিত। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য বাড়িয়ে আগে ভাগে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধরপাকড় ও কড়া নজরদারির পরেও ঠেকানো যাচ্ছে না কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অপতত্পরতা। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল বের করছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে একাধিক মিটিং করেছেন। তারপরও ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন করে ধরপাকড় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এই মুহূর্তে শক্তভাবে বিষয়টি তারা দেখতে চান।
স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউতে দুদকের চিঠি। কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম। এতে বলা হয়, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থপাচারের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থপাচারের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
টাইমস অব বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খবর— Putul set to join AL Presidium; । আ. লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হচ্ছেন পুতুল। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পর দেশে ফেরার আলোচনার মধ্যেই দল গোছানোর কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চলতি মাসের মধ্যেই পুতুলের এই মনোয়ন চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন। অবশ্য পুতুল একা নন, চট্টগ্রাম বিভাগের একজন এবং বরিশাল বিভাগের আরও একজন নেতার সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা আছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল বা কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের সভাপতি এই পদে মনোয়ন দিয়ে থাকেন।
অপরাধে এবার ‘শিশু গ্যাং’। দেশ রূপান্তরের শিরোনাম। এতে বলা হয়, ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা। কারওয়ান বাজার রেললাইন-সংলগ্ন মাছের আড়তের সামনে এক পথচারীকে ঘিরে ধরে চারজন শিশু। তাদের বয়স আনুমানিক আট থেকে ৯ বছর। তারা ওই পথচারীকে ছুরি ধরে মোবাইল ফোন ও ১ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পথচারীর চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। বীরদর্পে ওরা চলে যায় রেললাইনের ঘুপচি ঘরের ভেতর। একই ঘটনা ঘটেছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে দুই শিশু বাসের জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এক যাত্রীর। শুধু কারওয়ান বাজার বা আব্দুল্লাহপুর নয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের মতোই শিশু গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে গেছে। কিশোর অপরাধীদের মতোই ওরা বেপরোয়া আচরণ করছে। চোখের সামনেই দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে এই শিশু গ্যাং। কিশোর গ্যাংয়ের পরিবার বা ঠিকানা থাকলেও শিশু গ্যাংয়ের অধিকাংশই ভাসমান এবং অভিভাবকহীন।
এই নিয়ে পুলিশে নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ইতিমধ্যে পুলিশের একটি ইউনিট গোপন বার্তা দিয়ে বলেছে, ভাসমান শিশুরা এসব অপকর্ম করছে। ওরা চুরি-ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। বস্তি-ফুটপাতসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আস্তানা গাড়ছে। তারা পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। একেকটি এলাকায় তারা গ্রুপ তৈরি করে অপরাধও চালাচ্ছে। কিশোর গ্যাংকে ছাপিয়ে শিশু গ্যাংয়ের বিস্তার নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এসব গ্রুপের অপরাধের ধরন ও বিস্তার নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনমনেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একসময় পাড়া-মহল্লায় দলবদ্ধ আড্ডা, মারামারি কিংবা আধিপত্য বিস্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা শিশু গ্রুপ এখন চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধসহ হরেক ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে পুলিশ ও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে কিশোর অপরাধীরা। চলতি বছর পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৫০টি থানায় ১১৮টি কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি শিশু গ্যাংও সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ২০ জন সদস্য থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করাও তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বা তদারকিতে সম্পৃক্ত আছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিশোরদের পাশাপাশি শিশু গ্যাংও থাকার তথ্য পাচ্ছি। তাদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। আশা করি, দ্রুত এসব অপরাধীকে নির্মূল করা সম্ভব হবে।
পুলিশ-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, শিশু গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিনতাই ও চুরির। ঢাকার মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাং ও শিশু গ্যাংয়ের উৎপাতের অভিযোগ করেছেন। গ্যাংয়ের সদস্যরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে। বস্তি, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাদের আস্তানা সবচেয়ে বেশি। এসব জায়গায় বসবাসকারী অরক্ষিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটি অংশ অপরাধী চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
