রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মবিরতি বারভিডার

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) সরকার ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী তাদের শোরুম বন্ধ রাখা এবং গাড়িসংক্রান্ত কয়েকটি সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

এই কর্মসূচির আওতায় বারভিডার সদস্যরা সারাদিন তাদের শোরুম বন্ধ রাখবেন। পাশাপাশি, তাদের সদস্যদের বিক্রি করা গাড়ির নিবন্ধন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া, কাস্টমস হাউসের মাধ্যমে আমদানি করা গাড়ির শুল্ক ও কর পরিশোধ, ই-পেমেন্ট এবং বন্দর থেকে গাড়ি খালাসের কার্যক্রমও বন্ধ রাখবে সংগঠনটি।

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সদস্যদের নিজ নিজ শোরুমের দৃশ্যমান স্থানে ব্যানার টানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বারভিডা বলেছে, আগের আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি ছিল। তবে ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে নতুন গাড়ি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে ভোক্তারা বঞ্চিত হবেন। নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম অনেক নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে, রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আরো বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সংগঠনটির দাবি, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে পরিণত করার সরকারি লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি মোটরযান খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়াতে পারে। সরকারের প্রতি ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ওপর আরোপিত সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে তারা। একই সাথে বয়স, কারিগরি বৈশিষ্ট্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষে এসব গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বারভিডা বলেছে, জনস্বার্থে সরকার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা না করা হলে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর জীবিকা ও বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।