শিক্ষার্থীদের এআই ও ভাষা শিক্ষায় দক্ষ হওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষার্থীদের এআই ও ভাষা শিক্ষায় দক্ষ হওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে এআই অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি বিষয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের মেধা কাজে লাগাতে হবে। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এআই অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি বিষয়। তোমাদের এই বিষয়গুলো আত্মস্থ করতে হবে। তোমাদের লেখাপড়ার সঙ্গে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি বানাতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ম্যান্ডারিন, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষা জানা শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, আজকে যারা ম্যান্ডারিন জানে, তাদের চীনে গিয়ে ভালো চাকরি খুঁজতে একদিনও সময় লাগে না। যারা কোরিয়ান ভাষা জানে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারে। যারা জাপানি ভাষা জানে, তারা জাপানে যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে কাজ চলছে।

কারিগরি শিক্ষাকেও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবাই ছাত্রদলের অনুসারী নাও হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত হতে পারে। দেশের জন্য কাজ করে নিজেদের একটি ইতিবাচক উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাটিকে এখান থেকে অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে। আমরা মনে করি, এই প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে নেয়া হলে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের কিছুটা হলেও স্বার্থ রক্ষা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের সকল স্বার্থের সঙ্গে থাকবে। শিক্ষার্থীরা যেন সুন্দরভাবে পড়াশোনা করতে পারে এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পাশে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ছাত্রদলের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠার কারণে ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর রাকিবকে অনুসরণ করা উচিত। নবীন শিক্ষার্থীদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও আদর্শ ধারণ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা এই দেশকে ভালোবেসে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা-বঞ্চনার অবসানে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ কামনা করে তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্ট কোনো দাবি জানাব না; আমার একটাই দাবি আপনার হাত দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিয়ে কেউ যেন ক্রেডিটের রাজনীতি না করে। শিক্ষার্থীদের ভাগ্যোন্নয়নে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন। অনুষ্ঠানে প্রায় ২১০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।