সরকারের কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে অভিযোগ তুলে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। বুধবার বেলা ১২টায় বগুড়ার টিএমএসএস মহিলা মার্কেট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের আচরণে মনে হচ্ছে আপনারা ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আপনারা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না। সময় থাকতে জনগণের রায় মেনে নিন। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করে সরকার দেশ পরিচালনা করলে তা হবে সরাসরি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করে যাচ্ছে। সংসদে এই দাবি নিয়ে বারবার সোচ্চার হওয়া এবং ওয়াকআউট করার পরও কোনো সুফল না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই নেতা ১১ দলীয় ঐক্যের ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের মূল দাবিগুলো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লংমার্চের প্রধান দাবি হলো গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা। এর পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার জনগণের কাছে দৃশ্যমান করা, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি করা, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও সারের বৈষম্যহীন সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দেশজুড়ে সব ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি চিরতরে বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের রূপরেখা ঘোষণা করে জানানো হয়, কর্মসূচিটি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা অতিক্রম করে রংপুরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। এটিএম আজহারুল ইসলাম সকল সাংবাদিককে এই আন্দোলন ও লংমার্চের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ গণমাধ্যমে তুলে ধরার উদাত্ত আহ্বান জানান।
