গণতন্ত্রে ফেরার সুযোগ অবহেলায় যেন না হারাই

সিলেটে প্রেসিডেন্টকে সংবর্ধনা

গণতন্ত্রে ফেরার সুযোগ অবহেলায় যেন না হারাই

ফন্ট সাইজ:

গণতন্ত্রের জন্য সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন- গণতন্ত্রে ফেরার সুযোগ অবহেলায় যেন না হারাই। মতের অমিল থাকতে পারে। গণতন্ত্রের স্বার্থে যেন দূরত্ব কমিয়ে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি। প্রেসিডেন্ট গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সিলেট নগর ভবনে তাকে দেয়া গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার গতকাল ৯ ঘণ্টার সফরে সিলেট আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুরে সিলেটে পৌঁছে তিনি ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এরপর বিকালে সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন- দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। দেশের পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। বারবার সেই সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এবার যে সুযোগ এসেছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। সিলেটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন- পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পর্যটন খাতে আরও বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব।

প্রবাসীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন- সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের বিনিয়োগকে পর্যটন, কৃষি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, চা, মৎস্য, গ্যাস, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার সমপ্রসারণে কাজ করছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ খাত আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এ অঞ্চলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। বড় কিছু উন্নয়ন প্রকল্পও সামনে এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনায় যাননি সিনিয়র নেতারা: নগর ভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবর্ধনায় যাননি বিএনপি’র অনেক সিনিয়র নেতা। এর মধ্যে ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসা’র চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম। জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- প্রেসিডেন্ট সিলেট আসার পর এয়ারপোর্টে বরণ করা, সার্কিট হাউসে অবস্থান ও একসঙ্গে মাজার জিয়ারত করেছি। বিদায়ের সময়ও আমরা ছিলাম। তবে সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠানে আমরা যাইনি। কারণ নামে নাগরিক সংবর্ধনা হলেও সবার সঙ্গে সমন্বয় করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

এক নেতাই তার মতো করে সব করেছেন। এদিকে সিলেটে অবস্থান করা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক, সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মৌলভীবাজার জেলার বিএনপি’র নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাননি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা। প্রেসিডেন্ট সিলেটে প্রবেশপথে পৌঁছালে মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নগরীর সাতটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান। এ সময় দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাননি মহানগর বিএনপি’র নেতারা। নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন- যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনার আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।