কেরানীগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে, গুলি করে হত্যা

কেরানীগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে, গুলি করে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশীনগর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সেলুনে ঢুকে মো. ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ফরহাদ মোহাম্মদপুর- রায়েরবাজার এলাকার কিশোর গ্যাং পাটালি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। গতকাল দুপুর ৩টার দিকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ভোলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে এবং পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকাতে থাকতেন।

নিহতের স্বজন ও সঙ্গীদের সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাথে মাছের ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি সেখানকার ‘অ্যালেক্স গ্রুপের’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু ও সাব্বিরসহ ৭ থেকে ৮ জন সন্ত্রাসী তার কাছে চাঁদা দাবি করে। এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং দৈনিক নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা না দিলে তাকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। ফরহাদ চাঁদা দিতে স্পষ্ট না করে দিলে তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর একটি সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটে তিনজন যুবক পিস্তল ও চাপাতি হাতে সেলুনে প্রবেশ করছে। সেলুনে ঢোকার আগেই প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে সেলুনের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে একজন। এর মধ্যে ওই দরজা দিয়ে দু’জন দৌড়ে বের হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে লুঙ্গি পরা ফরহাদকে রক্তাক্ত অবস্থায় টেনে বের করতে দেখা যায়। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলেও একজন তার লুঙ্গি ধরে রাখে। পরে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে গুরুতর জখম অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

নিহতের বন্ধু সাকিব বলেন, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। দুপুরে বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে চুল কাটাতে যান তিনি। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে কালা সোহেল, সাগর, হাবিব ও আরমানসহ বেশ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ও বন্ধুরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।

নিহতের আরেক বন্ধু আরিফ বলেন, অ্যালেক্স গ্রুপের’ সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ ১০-১৫ জন ফরহাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ফরহাদ কোনো টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গ্যাংটির সদস্যদের সঙ্গে ফরহাদের বিরোধ হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ফরহাদ তার বাসার কাছেই ‘রাজ সেলুনে’ চুল কাটতে গিয়েছিলেন। তখন সাব্বির ও আরমানের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সেলুন মালিক ইরফান বলেন, বেলা ৩টার দিকে ফরহাদ তার সেলুনে চুল কাটাতে ও সেভ করতে আসেন। সেভের শেষ মুহূর্তে তিন যুবক সেলুনে ঢুকে তাকে কাছ থেকে গুলি করে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি সেলুনের বাইরে বের হলে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। হত্যাকারীদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহত ব্যক্তি ও হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।