জয়পুরহাটের কালাইয়ে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন, তোলা, বাছাই, পরিবহন ও হিমাগারে সংরক্ষণসহ ৬০ কেজির এক বস্তায় খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৪১০ টাকা। অথচ হিমাগার গেটে বিক্রি হচ্ছে ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকা। ফলে বস্তাপ্রতি লোকসান ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে আলু সংরক্ষণ করায় অনেকের দেনাও বাড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, দাম কমলেও হিমাগারের ভাড়া কমেনি।
কেজিপ্রতি ৬ টাকা হিসাবে বস্তাপ্রতি ভাড়া ৩৬০ টাকা। তবে হিমাগার মালিকদের দাবি, এই ভাড়া পুরোটা লাভ নয়, বিদ্যুৎ, শ্রমিক, রক্ষণাবেক্ষণ ও জেনারেটরে তাদেরও বড় ব্যয় রয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৭৩ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে। ১৪টি হিমাগারে রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার টন। এর মধ্যে উত্তোলন হয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ। এখনো হিমাগারে আলু মজুত রয়েছে ৬৮ শতাংশ। ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান ব্যাংক ঋণ নিয়ে ২৪ হাজার বস্তা আলু রেখেছেন। বর্তমান দরে বিক্রি করলে তার লোকসান প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, দিন দিন দেনা বাড়ছে। অথচ হিমাগারের ভাড়া ঠিকই দিতে হচ্ছে। আঁওড়া গ্রামের মাহবুব হোসেনের ১৩ হাজার বস্তায় সম্ভাব্য লোকসান ৭০ লাখ ২০ হাজার থেকে ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, আলুর দাম পড়ে গেলেও হিমাগারের ভাড়া কমে না। আসল টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ এম ইশরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক রায়হান হোসেন বলেন, সাধারণ আলু ৮৭০ টাকা এবং দেশি পাকড়ি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় ভাড়া ৭৫ পয়সা কমিয়ে কেজিপ্রতি ৬ টাকা নেয়া হচ্ছে। পুনট কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, লোডশেডিংয়ে জেনারেটরের ডিজেল বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। পল্লী কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. সাব্বির হোসেন জানান, তাদের হিমাগারে প্রায় ৮ হাজার টন আলু রয়েছে। মান্নান অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক মো. জামিন হোসেন বলেন, তাদের হিমাগারে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বস্তা আলু রয়েছে, যার মধ্যে ৭৬ হাজার বস্তা বীজ, দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় আলু রপ্তানিকারক রাশেদুজ্জামান ফকির বলেন, উৎপাদনের তুলনায় বাজারের চাহিদা কম থাকায় দাম পড়ে গেছে।
হিমাগারে মজুত আলু দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালাই জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. জোবায়ের আলী বসুনীয়া বলেন, তীব্র গরমে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। এতে হিমাগারগুলোতে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, মাত্র ৩২ শতাংশ আলু উত্তোলন হয়েছে। দাম কম থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু তুলছেন না ফলে দীর্ঘদিন হিমাগারে থাকায় সংরক্ষণ ব্যয়ও বাড়ছে।
