চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। একই ঘটনায় এক সহকারী কমিশনারকে (এসি) প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ক্লোজড হওয়া দুই এএসআই হলেন-সিএমপি’র ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) বাছির উদ্দিন ও রেশন স্টোরের আবু সুফিয়ান। আর প্রত্যাহার করা হয়েছে এলআইসির সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজনকে। সিএমপি সূত্র জানায়, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ হালিশহর কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের একটি টয়োটা করোলা গাড়িও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের সিএমপি’র এলআইসি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দুই ব্যক্তির মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেয়া এবং জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। ভুক্তভোগী শাকিলের অভিযোগ, তাকে তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শাকিলের আরও অভিযোগ, ওই দিন রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপি’র কাছের একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ দফায় তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।
দুই ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে সেখানে স্বাক্ষর নেন। পরে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়। রাত ১২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও পরদিন ৫ই সেপ্টেম্বর রাতে তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ফেরত দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এরই মধ্যে দুই এএসআইকে সাময়িকভাবে ক্লোজড এবং এসি শরিফুল আলম সুজনকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসি শরিফুল আলম সুজনের বিরুদ্ধে নগরের বাকলিয়ায় কোটি টাকার বিদেশি মদ গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে বলে সিএমপি সূত্র জানিয়েছে। সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
