শ্রীপুরে বসতবাড়ি ভেঙে রাস্তা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

গাজীপুরের শ্রীপুরে বসতবাড়ি ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ও কাসেম মাস্টার গংয়ের বিরুদ্ধে। এতে সম্মতি না দেয়ায় স্থানীয় বনবিভাগের লোকজনকে ব্যবহার করে পৈতৃক ও দখলীয় জমিতে স্বাভাবিক চলাচল ও সংস্কারকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হাসেম ও হাসেনের পরিবার। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা তাদের বসতবাড়ি রক্ষা এবং হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের পৈতৃক ও দখলীয় জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। সম্প্রতি একটি পক্ষ ওই বসতবাড়ির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য চাপ দিতে থাকে। বসতবাড়ি ভেঙে রাস্তা দেয়ায় সম্মতি না দেয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শফিকুল ও কাসেম মাস্টার গং সরাসরি বসতবাড়ি উচ্ছেদে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় বনবিভাগের কয়েকজন সদস্য ও কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে তাদের জমিতে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। এমনকি জমিতে সংস্কারকাজ ও স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রেও বনবিভাগের নাম ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে হাসেম ও হাসেন বলেন, আমাদের পৈতৃক ও দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি ভেঙে রাস্তার জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। আমরা রাজি না হওয়ায় প্রতিপক্ষরা বনবিভাগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করছে। জমিতে গেলে মামলা ও উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাউকে অন্যায়ভাবে চাপ বা হয়রানি করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বনবিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, সরকারি বনভূমির সীমানা ও সরকারি নিয়মকানুন রক্ষার স্বার্থেই তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো পক্ষকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের পৈতৃক বসতবাড়ি ও জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানি বন্ধ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।