রোপা আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা

ফন্ট সাইজ:

বর্ষার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা। বীজতলা থেকে চারা তুলে জমি প্রস্তুত করে তা রোপণে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কৃষকরা। কোথাও জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পুরোদমে চারা রোপণ চলছে, আবার কোথাও পানির সংকটে কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে নতুন বৃষ্টির জন্য। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা কোমর পানিতে নেমে সারিবদ্ধভাবে আমনের চারা রোপণ করছেন। কেউ জমি চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলে আঁটি বাঁধছেন। শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই ইতিমধ্যে আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে রেখেছেন। কেউ কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণ শুরু করেছেন।

আবার যেসব কৃষকের জমিতে পানির পরিমাণ কম, তারা বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন। কৃষকরা আরও জানান, অনেক জমিতে আগে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে আউশ ধান কেটে ঘরে তোলার পর ওই জমিগুলোও দ্রুত প্রস্তুত করে রোপা আমনের চারা লাগানো হচ্ছে। ফলে একই জমিতে একের পর এক ধানের আবাদ হওয়ায় কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষি বিভাগের তৎপরতা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শায়েস্তাগঞ্জে রোপা আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান এবং উফশী জাতের ধানের আবাদ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এবার কৃষকদের মধ্যে বিআর-২২, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-১০৩, বিনা-৭ ও বিনা-১৭ সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষে আগ্রহ দেখা গেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের কারণে আমন চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

পাশাপাশি কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন এবং উপযুক্ত জাত নির্বাচনের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেসব জমিতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে, সেখানে ইতিমধ্যে রোপণ কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। পানির সংকট রয়েছে এমন জমিতে বৃষ্টির প্রয়োজন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রোপা আমনের আবাদ শেষ হবে। এবার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ারও আশা করছি।