ঢাকার নবাবগঞ্জে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (সেন্টু) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির কাছে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে রক্তের দাগ পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীতে ডুবুরি দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে নবাবগঞ্জের খতিয়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বের হন জাহাঙ্গীর। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্নস্থানে খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নবাবগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্নস্থানে তল্লাশি চালায়। পরে তার মুঠোফোনের টাওয়ারও নিষ্ক্রিয় দেখায় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর তাদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরিবারের দাবি, সেন্টুকে কেউ হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিতে পারে। পরে পুলিশকে জানানো হলে ঢাকার ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়েও সেন্টুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে নদীর পাড়ে যেখানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, সেই স্থানটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। নিখোঁজ সেন্টুর ভাই বিপ্লব হোসেন বলেন, আমাদের ধারণা, ভাইকে কেউ হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে। আমাদের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকা থেকে দু’জনকে আটক করেছে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ বলেন, পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে এটি নিখোঁজের ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম বলা যাচ্ছে না। শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত কারণ বা মোটিভ উদ্ঘাটন হবে।
