চট্টগ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিললো চিরকুট

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকা থেকে জনতা ব্যাংকের এক ব্যবস্থাপকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মোহাম্মদ আবুল হোসাইন (৪৫)। ঘটনাস্থল থেকে তার লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আবুল হোসাইন জনতা ব্যাংকের মোহাম্মদপুর জিবি শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩৯) এ ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৩ই সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে আনুমানিক রাত ১টার দিকে আবুল হোসাইন ও তার স্ত্রী আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান।

সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন শারমিন। নামাজের নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে তিনি দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে প্রবেশ করে স্বামীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে চাদর প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তিনি। এ সময় তার চিৎকারে বড় ছেলে আদিব হোসাইন (১২) এবং পরে শারমিনের বোন সুরাইয়া আক্তার সেখানে ছুটে আসেন। তারা গলায় প্যাঁচানো চাদর কেটে আবুলকে নিচে নামান। পরে শারমিনের বোনের জামাই মো. শাহাজালাল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে হালিশহর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটে আবুল গত কয়েক মাস ধরে মানসিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

বিশেষ করে ‘মোহাম্মদপুর জিবি শাখার’ দায়িত্ব নেয়ার পর ঋণ দেয়া-না দেয়া, বদলি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে পেশাগত চাপের কথা তিনি চিরকুটে লিখেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে থাকার কথাও চিরকুটে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২১ সালের একটি চেকসংক্রান্ত ঘটনায় লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তার ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি সিআর মামলা হওয়ার বিষয়টিও তিনি লিখেছেন। চিরকুটে আবুল উল্লেখ করেন, মামলার বিষয়টি তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জানতে পারেন। এরপর গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না। চিরকুটের শেষ দিকে পরিবারের সদস্যদের দেখে রাখার আকুতি জানিয়ে তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথাও লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হালিশহর থানার ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।