নুসরাত হত্যা মামলায় খালাস ৮ জন কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাসের আদেশ প্রাপ্ত ৮ জন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তারা বের হন। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই- সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মো. জাকির হোসেন জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেয়া হয়।

মুক্তি প্রাপ্তরা হলেন- মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি। এ সময় মা কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার ৭ বছরের মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীও বের হন। মুক্তির খবরে সকাল থেকেই তাদের আত্মীয়স্বজন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় মুক্তি প্রাপ্তরা তাদের আত্মীয়স্বজনকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সিরাজ-উদ্‌-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করার পর হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল। ফেনীর একটি মাদ্রাসার ছাদে হাত-পা বেঁধে আগুন দেয়া হয় আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে। ঘটনার ৫ দিন পর ১০ই এপ্রিল ১৯ বছর বয়সী রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নুসরাত হত্যার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সচেতন মহল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান।