চট্টগ্রামে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ মহসিনকে একদিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে নগরের খুলশী থানায় দায়ের করা সাইবার অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গত ১২ই সেপ্টেম্বর নগরের খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। পুলিশের ভাষ্য, কয়েকদিন আগে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে ১১৮ গ্রাম কোকেন পাঠান মহসিন। পরে চালানটি ফেরত এলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সেই তদন্তের সূত্র ধরেই খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, ৬৩ বিদেশির সঙ্গে মহসিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তার মাধ্যমেই বিদেশিদের থাকার জন্য ওই ভবনটি ভাড়া নেয়া হয়। এমনকি বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল বলে পুলিশের দাবি। এরপর গত শুক্রবার খুলশীর ওই ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস জব্দ করা হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃত কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে ২০ জন নারী এবং একজন শিশু রয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই আটতলা ভবনে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণাসহ নানা ধরনের অনলাইন অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন তারা। এ ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিইউ) এসআই রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় মঙ্গলবার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত। আর কোকেন উদ্ধারের মামলায় মহসিনকে একদিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
