পাবনার ফরিদপুরে সাকিবুল ইসলাম (১৩) নামে এক কিশোরকে হত্যা করে তার অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. শাহীন আলম ইমন (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গত সোমবার তাকে আটক করা হয়। নিহত সাকিবুল উপজেলার রতনপুর গ্রামের হারিছ প্রামাণিকের ছেলে। আটক ইমন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের আকন্দ পাড়ার শাহ আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৩ই সেপ্টেম্বর) সকালে সাকিবুল অটোভ্যান নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুরের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরে একইদিন বিকালে উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের উত্তরে বড়াল নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি সাকিবুলের বলে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছিল, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সাকিবুলকে হত্যা করে মরদেহ নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় রোববার রাতে সাকিবুলের বাবা হারিছ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিকে শনাক্ত করা হয়।
এরপর সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর থানাধীন দিঘুলিয়া বাজার এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম ও উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রাম থেকে সাকিবুলের অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ছিনতাই করা অটোভ্যানটি কেনার অভিযোগে ধানুয়াঘাটা গ্রামের ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন (৪৫)কেও আটক করেছে পুলিশ।
ফরিদপুর থানার ওসি মনজুরুল হাসান মাসুদ বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের আটক করা হয়েছে। আসামিদের ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
