জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দাবি

র‌্যাবকে এসআরবি নামে পুনঃস্থাপন বন্ধ করতে হবে

ফন্ট সাইজ:

র‌্যাব’এর ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। একই সঙ্গে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে ‘ র‌্যাব থেকে এসআরবি: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সহ-সভাপতি মিসেস তানিয়া রব। প্রধান আলোচক ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। বিশেষ আলোচক ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম, জেএসডি স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজু, ডা. হেলালুজ্জামান, শেখ নাসির প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শহীদুল্লাহ ফরায়জী।

মূল প্রবন্ধে শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, ‘রক্তের সাগরে ভাসমান এই প্রজাতন্ত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে, প্রতিরক্ষা বাহিনী থাকবে, গোয়েন্দা সংস্থা থাকবে-কিন্তু কোনো জল্লাদ, ঘাতক বা কসাই বাহিনী থাকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘কসাই বাহিনী’ বলতে কোনো বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে বোঝানো হচ্ছে না; বোঝানো হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এমন এক অবক্ষয়িত ও অমানবিক রূপকে, যেখানে আইন তার নৈতিক ভিত্তি হারায়, ক্ষমতা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে উঠে যায়, মানবিক মর্যাদা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের কাছে পরাজিত হয় এবং নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার ওপর সহিংসতা প্রয়োগের স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরিণত হয়। আর যে মুহূর্তে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-ক্ষমতা নাগরিকের নিরাপত্তার পরিবর্তে নাগরিকের আতঙ্কের উৎসে পরিণত হয়, সেই মুহূর্তেই নিরাপত্তা বাহিনী তার নৈতিক সত্তা হারিয়ে ‘কসাই বাহিনী’-তে পরিণত হয়।

আলোচনা সভায় তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে বলা হয়: র‌্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধ করতে হবে। একই ক্ষমতা ও একই ক্ষমতা-প্রয়োগের সংস্কৃতি এসআরবি’এর মাধ্যমে বহাল রাখা যাবে না।; এসআরবির নামে জবাবদিহিবিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন করা যাবে না। প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা সক্ষমতা পুলিশের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই গড়ে তুলতে হবে।; প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।; গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।; ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধন করে গুমের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে দিতে হবে।; প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। কোনো নাগরিককে গোপন স্থানে আটক রাখা বা আইনের বাইরে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ রাখা যাবে না।; সব আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে।;

প্রধান আলোচক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধীন কাজ করার কথা নয়। ক্ষমতা কাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গুমের শিকার যারা তারাও আজ সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে না। নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিশালা স্থাপন করা হচ্ছে।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার কারণে র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত। অথচ সেই র‌্যাবই এসআরবি নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘সেনাবাহিনীর লোক যদি পুলিশের কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করায় রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সভাপতির ভাষণে তানিয়া রব বলেন, ‘রাষ্ট্রের রেগুলার বাহিনী থাকার পরও যখন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয় তখনই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার উপেক্ষা করছে। ভয়ের সংস্কৃতি উপেক্ষা করে নতুন করে লড়াই শুরু করতে হবে।’