ফেনীর নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাসপ্রাপ্ত আসামি কামরুন নাহার মনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। একইসঙ্গে জেলে জন্ম নেয়া তার ৭ বছরের কন্যাশিশু মুবাশশেরা খাতুন রাতি মুক্তি পেয়েছে।
মঙ্গলবার গাজীপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পায় তারা। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন নাহার মনির আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ। তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকে শিশুটি কারাগারে বেড়ে উঠছিলো। মায়ের মুক্তির সঙ্গে শিশুটি আজ জীবনে প্রথমবারের মতো মুক্ত পরিবেশ দেখছে।’ উল্লেখ্য, ঘটনার সময় মনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।
এরপর ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়।
