প্রথম আলো
‘ঢাকায় মেয়র পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী অনেকটাই চূড়ান্ত। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। দুটি দলই কৌশলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করবে না। তারা প্রার্থী বাছাই করে সমর্থন দেবে। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, তারা ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে মো. শফিকুল ইসলাম খান ও দক্ষিণে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময়ই নাগরিক সেবার পাশাপাশি তাঁদের সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো টানাপোড়েন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্জীব হয়ে পড়েছিল। এখন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চেষ্টা করছি, নাগরিকদের সুযোগ–সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার।’
নির্বাচন ও নাগরিক সেবা—দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘জনগণ যা চায়, সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
যদিও বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, আপাতত দুজনই ঠিক আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা এখনই বলা মুশকিল। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নানা মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ হবে।
জামায়াতের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পছন্দের প্রার্থী অনেকটা নিশ্চিত। তারা ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের শাখার আমির এবং সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। গত জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য।
এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট–৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। অন্যদিকে সাদিক কায়েমের নির্বাচনী পরিচিতি মূলত ডাকসুর ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক।
সেলিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সাদিক কায়েমও জামায়াতের ঘরোয়া কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সাদিক কায়েম যেহেতু এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সে কারণে জামায়াতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণটা প্রকাশ্য হচ্ছে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তিনি খুব সাড়া পাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, নগরবাসী তাঁকে বিজয়ী করে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোবেন।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল ঢাকায় দলীয় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তাঁরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতেও দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তিনি গণমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েম প্রার্থী বলে জানান।
প্রথম নির্বাচনে আসিফ, আবার ভোটের মাঠে পাটওয়ারী
এনসিপি দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।
আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা। সংসদ বা স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়েই তিনি আগে নির্বাচন করেননি। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। সিটি নির্বাচন সামনে রেখে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাঁদের দুই সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিএনপি সামনে রাখছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুজনকে। জামায়াতের উত্তরের প্রার্থী নগর সংগঠনের নেতা, দক্ষিণের প্রার্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। যদিও বিএনপির দক্ষিণের প্রার্থী আবদুস সালামও একজন ভালো সংগঠক। তিনি দীর্ঘ সময় মহানগর দক্ষিণে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রও ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। আর উত্তরের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। আর এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির দুই মুখকে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, স্থানীয়ভাবে যিনি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য, তাঁকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন কতটা ভোটে প্রভাব ফেলে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন তাই তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষাও হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—কোনটি ভোটারদের বেশি টানে, তা বোঝা যাবে নির্বাচনে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পথের কাঁটা হাসিনা: থমকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই সম্পর্কের উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু ঘুরেফিরে ‘শেখ হাসিনা’ ইস্যুতে এসেই আটকে যাচ্ছে দুই দেশের হিসাবনিকাশ। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসে আর কোনো রাজনৈতিক বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না বলে দেশটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও আস্থার সংকট এখনো কাটেনি। কারণ, ভারত হাসিনাকে ব্যবহার করে আবারও নতুন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করে কি না, এ নিয়ে ঢাকায় সংশয় আছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া এবং ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের চিঠিতে তারেক রহমানকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন না করায় এ সংশয় আরও গভীর হয়েছে।
বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে সোমবার ভোলায় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) দেওয়া বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত দেশটির পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। তিনি বলেন, পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও কিছু রিজার্ভেশন বা আপত্তি রয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সরকারের এমন মনোভাবের কারণেই মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা হাসিনাকে ফেরত দেবে না। তিনি নিজে থেকে চাইলে দেশে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়ার আসলে কী হবে, ভারত এতে সহায়তা করবে কি না-সে প্রশ্ন থেকে যায়। বাংলাদেশের দিক থেকে বলা হয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর করবেন। কিন্তু সেই পরিবেশ সৃষ্টিতেও এখনো অন্যতম বাধা ‘শেখ হাসিনা’ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি দেশের জনমনেও এমন ভাবনাই ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন, হাসিনা ভারতের ‘ট্রাম্প কার্ড’।
তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা ইস্যুটি একটি বড় অন্তরায় হলেও এটিই একমাত্র বাধা নয়। এ সংকট নিরসনে উভয় পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো আলোচনা বা কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাব দেখা যাচ্ছে। সমস্যার সমাধান হিসাবে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাহস এবং সদিচ্ছার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া, জনমনে ক্ষোভ এবং কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থরক্ষায় দুই দেশের নেতৃত্বকে কৌশলগত এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘শেখ হাসিনা’ ইস্যুই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে হাসিনা বলছেন তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। এজন্য দু-এক জায়গায় ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি তার পক্ষে বিভিন্ন ‘বয়ান’ তৈরি করা হচ্ছে। অবস্থাটা এমন-তিনি ও তার দল গায়ের জোরেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়বেন। অন্যদিকে, হাসিনা বা আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে পারছে কি না, সে আলোচনাও হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটিকে রাজনীতি করতে দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন চাপ রয়েছে। কিন্তু এক জাতিসংঘের হিসাবেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন; যার দায় পুরোটাই হাসিনার ওপর বর্তায়। অভ্যুত্থানে আহতও হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া ক্ষমতায় থাকতে তার সরকারের সময়ে শত শত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনাসহ তার দলের অনেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশের রাজনীতিতে আলোচনা হলো-ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের তথা রক্তস্নাত অধ্যায়ের পর ভোটের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের সরকার দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এখন তাই শেখ হাসিনা ও তার দলের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারই মুখ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চাইলেও হাসিনা বা নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটিকে রাজনীতির মাঠে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে দেশের কিছু জায়গায় পতিত আওয়ামী লীগের কর্মীদের মিছিল দেখা গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ এবং শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতি করা-দুটিই বর্তমান পরিস্থিতিতে এক বিষয় নয়। কারণ, আগে শেখ হাসিনা যে গণহত্যা চালিয়েছে তার বিচার হতে হবে। তাই চাইলেই শেখ হাসিনা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না। এমনকি ভারত চাইলেও সম্ভব না। কারণ, শেখ হাসিনা রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ছাড়াও জনগণের বড় একটি অংশ ক্ষুব্ধ হবে।
তবে শুধু শেখ হাসিনা ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থবির থাকতে পারে না বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ। যুগান্তরকে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থবির হয়ে থাকাটা কূটনৈতিক অদূরদর্শিতার লক্ষণ। তার মতে, পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বরং নিজেদের উদ্যোগে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা জরুরি।
কালের কণ্ঠ
‘৭ ধাপে ভোট, শুরু ১২ নভেম্বর’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৯ মাস পর আগামী ১২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমে প্রত্যাশিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে।
আসন্ন শীত মৌসুমে এ নির্বাচন উত্তাপ ছড়াবে সারা দেশেই। প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউপিগুলোর নির্বাচন হবে। ঠাকুরগাঁও জেলা বাদে দেশের ৬৩ জেলার সদর বা কাছাকাছি উপজেলার ইউপিগুলো প্রথম ধাপের নির্বাচনের জন্য বেছে নেওয়া হবে। মোট সাতটি ধাপের এ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল, সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম পাঁচটি ধাপেই বেশির ভাগ ইউপির নির্বাচন শেষ করা হতে পারে। গতকাল সোমবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইসির প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ (সোমবার) স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি এবং সভায় কতগুলো প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত নয়।
তবে আপনারা এগুলোকে খসড়া সিদ্ধান্ত হিসেবে নিতে পারেন। আগামী ১৭ সেপ্টম্বর আমাদের ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল (আন্ত বিভাগীয়) একটি সভা রয়েছে, সেখানে এটি চূড়ান্ত হবে।’
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা চার হাজার ৫৮০। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী তফসিলের মধ্যে ঢুকে যাবে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে এর মধ্যে কিছু ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ এরই মধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সে কারণে আমরা (নির্বাচনের) প্রক্রিয়াটি শুরু করতে চাচ্ছি।’
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা বাৎসরিক বিভিন্ন সময়সূচি বিবেচনায় নিয়েছি; যেমন—স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট পরীক্ষা, এসএসসি পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রোজা, ঈদ এবং সব শেষে ঈদুল আজহা। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে যে সময়টুকু পেয়েছি, তা থেকে আশা করছি, সাতটি ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারব। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রথম পাঁচটি ধাপের মধ্যেই বেশির ভাগ নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেলা। আর শেষ দুটি ধাপ (ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপ) অপেক্ষাকৃত হালকা রাখা হবে। এতে প্রথম ধাপগুলোতে কোনো কারণে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তা যেন শেষ ধাপে করা যায়; পাশাপাশি আইনি জটিলতা বা চলমান মামলার কারণে যে ৫৬টি ইউনিয়নে এখন নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলো যেন শেষ ধাপগুলোতে সম্পন্ন করা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ১২ নভেম্বর আমরা প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারব। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট গ্রহণ হতে পারে।’
প্রথম ধাপে যেসব ইউপিতে নির্বাচন: আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘কোন কোন ইউনিয়নে নির্বাচন হবে তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। তবে কমিশন থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক গাইডলাইন অনুযায়ী প্রথম ধাপে আমরা আশা করছি, আনুমানিক ৮০টি উপজেলার সব ইউপিতে (আইনি জটিলতায় থাকা ইউপি বাদে) নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে। যেসব ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে শেষ করা। আমরা চেষ্টা করব ৬৩টি জেলায়ই একসঙ্গে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে। প্রথম ধাপে শুধু ঠাকুরগাঁও জেলা বাদ থাকবে। কারণ সেখানে জাতীয় সংসদের একটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা চাই না একসঙ্গে দুটি নির্বাচনের প্রচার চলুক। ঠাকুরগাঁও জেলার ইউপির প্রথম ধাপের নির্বাচনটি দ্বিতীয় ধাপে স্থানান্তর করা হবে। আমরা চেষ্টা করছি, যেসব জেলায় সদর উপজেলা রয়েছে, সেগুলোর সদর উপজেলার ইউপিগুলোকে প্রথম ধাপে রাখতে। আর যেসব জেলায় সদর উপজেলা নেই (সিটি করপোরেশন এলাকা) সেগুলোতে সদর উপজেলার সংলগ্ন সহজ ব্যবস্থাপনাযোগ্য উপজেলার ইউপিগুলো প্রথম ধাপে থাকবে। এ ছাড়া আদালতের আদেশের কারণে দুটি ইউপিতে আগেই নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দুই ইউপি অন্তর্ভুক্ত করেই ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন দিয়ে নির্বাচন শুরু হবে।’
‘তবে যেসব জেলায় উপজেলার সংখ্যা অনেক বেশি, যেমন—চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় তিনটি করে উপজেলা প্রথম ধাপে থাকবে। আর যেসব জেলায় ১০টি বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেখানে দুটি করে উপজেলা প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত হবে। হিসাবটি হলো ৬৩টি জেলা এবং আদালতের আদেশের কারণে দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন করতে হবে এবং বড় জেলাগুলোতে আনুপাতিক সমতা আনার জন্য অতিরিক্ত উপজেলা যুক্ত করে মোট ৮০টি উপজেলা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সমুদ্রপথে পণ্য আমদানির খরচ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গভীর সংকটে পড়েছে। ৯ মাসের ব্যবধানে জাহাজে এক কনটেইনার (গড়ে ১৪ টন) পণ্য এনে বন্দর থেকে খালাস করতে সব মিলিয়ে এখন ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে গড়ে ৬৬ শতাংশ।
গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর ২৩ খাতে এক লাফে মাশুল বাড়িয়ে ছিল ৪১ শতাংশ। বন্দরে ২০ ফুট এককের একটি আমদানি কনটেইনারেই বাড়তি গুনতে হচ্ছে পাঁচ হাজার ৭২০ টাকা। এই ধকল সামলে ওঠার আগেই গত ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালিতে শুরু হয় অস্থিরতা। সেটির প্রভাবে সাগরপথে এক কনটেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আনতে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়ে ২৫ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বেড়েছে জাহাজ ভাড়া। বেড়েছে ঝুঁকি ভাতা ও বীমার হারও। সেই হিসাবে এক কনটেইনার পণ্যে বাড়তি খরচ হচ্ছে ৬৬ শতাংশ।
এদিকে, হরমুজের পর বাব-আল মান্দেব প্রণালিতেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় সাগরপথে পণ্য পরিবহনের খরচ আরেক দফা বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এত দিন সীমিত পরিসরে জ্বালানি পরিবহন করতে পারলেও পাল্টাপাল্টি হামলার মুখে এখন কার্যত তা বন্ধ হয়ে আছে। লোহিত সাগরে সংঘাত আরও বাড়লে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপগামী জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে। বাব-আল মান্দেব প্রণালি বন্ধ হলে এক কনটেইনার পণ্য আমদানি খরচ ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বাব-আল মান্দেব ব্যবহার না করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে ঘুরে গত শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে আসা জাহাজ ‘এমটি নিমেনিয়া’। পথ পরিবর্তন করে আসার কারণে এই জাহাজকে মূল ভাড়ার পাশাপাশি প্রায় ৫৪ লাখ ডলার বাড়তি গুনতে হয়েছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে বাংলাদেশি টাকায় যা দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। এই জাহাজের মতো অন্যসব জাহাজ বাড়তি পথ ঘুরলে তাদেরও গুনতে হবে এমন অর্থ।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর পরই খরচ বাড়ার এই ঘোড়া ছুটতে থাকে। ফ্রেইট ফরোয়াডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ২০ ফুট এককের এক কনটেইনার পণ্য আনতে আগে গড়ে এক হাজার ৪০০ ইউএস ডলার খরচ হলেও এখন লাগছে আড়াই হাজার ডলার। ২০ ফুট এককের একটি রপ্তানি কনটেইনার (গড়ে ৮ টন) বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে নিতে আগে তিন হাজার ডলার লাগলেও এখন লাগছে ছয় হাজার ডলারের বেশি। একই আকারের একটি রপ্তানি কনটেইনার বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের হামবুর্গ বন্দরে নিতে আগে আড়াই হাজার ডলার লাগলেও এখন লাগছে পাঁচ হাজার ডলারের বেশি। চীনের নিংবো বন্দর থেকে সরাসরি রুটে মায়েস্ক লাইনের একটি ২০ ফুটের কনটেইনারে পণ্য আনতে লাগত দেড় হাজার ডলার। এখন লাগছে এক হাজার ৯৫০ ডলার। জ্বালানির পাশাপাশি বীমার হার বেড়ে যাওয়ায় শিপিং লাইনগুলো আমদানিকারক থেকে এমন বাড়তি অর্থ আদায় করছে।
শুধু সাগর পথে নয়; বাড়তি খরচের ফাঁদ আছে দেশের বন্দরেও। ২০ ফুট এককের একটি আমদানি কনটেইনার বন্দরে আসার পর বাড়তি দিতে হচ্ছে পাঁচ হাজার ৭২০ টাকা। আগে ১০ হাজার ৫২৩ টাকা মাশুল দিয়ে খালাস করা গেলেও ৯ মাস আগে বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করায় এখন দিতে হচ্ছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাব-আল মান্দেব প্রণালি বন্ধ হলে এশিয়া থেকে ইউরোপের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে জাহাজের গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় (ট্রানজিট লিড টাইম) ১২ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত বাড়বে। এতে জলপথে যে খরচ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল সেটি ৪৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। তখন এক কনটেইনার পণ্য আমদানি খরচ ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
হরমুজ ও বাব-আল মান্দেব হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), সারসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। প্রতি বছর জ্বালানি চাহিদার ৬০ শতাংশই পূরণ করতে হয় আমদানির মাধ্যমে। আবার চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সিংহভাগও আসে সাগরপথে। উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হওয়া ইস্পাতের কাঁচামাল ও সিমেন্ট ক্লিংকারেরও বড় অংশ জাহাজে করে বিদেশ থেকে আসে। খরচ বাড়ার এই প্রভাব তাই সরাসরি পড়বে ভোক্তার কাঁধে।
ইত্তেফাক
‘সারের ঘাটতি নেই, তবে চাহিদামতো জোগানও নেই’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় সরকারের কাছে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন সার বেশি মজুত আছে। অথচ আমন মৌসুমে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে চাহিদামতো জোগানও নেই। কোথাও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে সার কিনতে হচ্ছে। গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকার পরও কৃষকের হাতে না পৌঁছানোর এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে দেশের সার বিতরণব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সারের সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। এর বিপরীতে সরকারি মজুত রয়েছে ৫১ লাখ ৮৩ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন সার বেশি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের সংকট সারের মজুতের নয়, বরং বিতরণব্যবস্থায় তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে। আমন মৌসুমে সারের চাহিদা যখন বেশি, ঠিক তখনই সরকার নতুন ডিলার নীতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বিদ্যমান ডিলারশিপে শূন্যতা, নতুন ব্যবস্থায় রূপান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ডিলারশিপ বাতিলের গুঞ্জনের কারণে গুদাম থেকে সার তোলার পরিমাণ কমে গেছে। এতে কৃষকের কাছে শেষ ধাপে সার পৌঁছানোর সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ তিনটি ডিলার ইউনিট রাখা যাবে। যোগ্য পুরোনো ডিলাররা বহাল থাকবেন, পাশাপাশি আরো একজন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে একজন ব্যক্তি একটির বেশি ডিলারশিপ রাখতে পারবেন না। যেসব ডিলার পয়েন্ট বর্তমানে খালি রয়েছে, সেখানেও নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থা কার্যকর করা শুরু হয় এমন সময়ে, যখন মাঠে পুরোদমে আমন আবাদ হচ্ছিল এবং সারের চাহিদা ছিল বেশি। সামনে রবি মৌসুমও। কর্মকর্তারা জানান, ডিলার ব্যবস্থা সংশোধনের কাজ জুনে শুরু হলেও বারবার পরিবর্তনের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ায় সারের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পর্যন্ত। এ কারণেই সমস্যাটা তৈরি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমনের আবাদ আগস্টের প্রথম থেকেই শুরু হয়। এ সময় কৃষকদের বিপুল পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়। ঠিক এই সময়েই নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় পুরোনো ডিলারদের অনেকে গুদাম থেকে সার তোলা কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ একেবারেই সার তুলছেন না। এ কারণেই সংকট তৈরি হয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, জুলাই ও আগস্টে ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক সার উত্তোলন করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতির মধ্যে কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বরাদ্দের সার তোলেনি—এমন ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের অনেকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯টি ডিলার পয়েন্ট খালি হয়েছে। এসব শূন্যস্থান পূরণ এবং ডিলার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই শূন্যতা নতুন নীতিমালার কারণে তৈরি হয়নি। তবে কৃষিবিদদের মতে, সারের চাহিদা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখন বিতরণব্যবস্থায় পরিবর্তন শুরু হওয়ায় আগে থেকেই দুর্বল ডিলার নেটওয়ার্ক আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এদিকে বিতরণব্যবস্থার সমস্যার কারণে কুড়িগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় কৃষক বারবার ডিলারের গুদামে গিয়েও সার না পেয়ে ফিরে আসার ঘটনা ঘটছে। আবার সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশিতে সার বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ করেছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সার বিতরণ স্বাভাবিক রাখতে তদারকি ও অভিযান জোরদার করেছে সরকার। গত ২৮ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৭০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং চার জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘রহস্যে ভরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) ৫০:৫০ মালিকানায় গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে। দুই ইউনিটে কেন্দ্রটির অনুমোদিত ক্ষমতা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসে।
কিন্তু বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর কয়েক বছর না যেতেই কেন্দ্রটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে রামপালের কোনো না কোনো ইউনিট ৩০ বার বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বার যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটি এবং তিনবার কয়লা সঙ্কটকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি কেবল জ্বালানি সঙ্কটের সমস্যা নয়। বারবার টারবাইন, বয়লার, টিউব, ফিডিং ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দেয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অথচ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও চুক্তির আওতায় সক্ষমতা-প্রাপ্যতার জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের দায় থাকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এত প্রশ্ন, তার জন্য জনগণকে কতটা অর্থ দিতে হচ্ছে?
সাত মাসে ছয়বার, আট মাসে আটবার
রামপালের অস্বাভাবিক হারে বন্ধ হওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাত্র সাত মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি ছয়বার বন্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ জুলাই টারবাইনের ত্রুটির কারণে ইউনিট বন্ধ হয়ে চার দিন পর চালু হয়। ৩০ জুলাই আবার কয়লা সঙ্কটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তখন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, কয়লা আসার পর ৮ আগস্টের দিকে উৎপাদন আবার শুরু হতে পারে। একই বছরের ডিসেম্বরে ইমপালস টিউব লিকেজের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়। এর আগে নভেম্বরেও যান্ত্রিক সমস্যায় কেন্দ্র বন্ধ হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর অষ্টমবারের মতো বন্ধ হয়েছিল।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিআইএফপিসিএলের নিজস্ব নথিতেও বয়লারসংক্রান্ত যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ২×৬৬০ মেগাওয়াট রামপাল প্রকল্পের বয়লার টিউবের জন্য প্রটেকশন শিল্ড ও বয়লার টিউব সংগ্রহের দরপত্র প্রকাশ করে। এগুলো একত্রে দেখলে যন্ত্রপাতির নকশা, উপকরণের মান, নির্মাণ ও কমিশনিংয়ের গুণগত মান, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন দক্ষতা- সব কিছুই স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
‘পুরনো মেশিন’ নয়, তাহলে সমস্যা কোথায়?
রামপালকে পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বলা যাবে না; বরং এটি ৬৬০ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট নিয়ে নির্মিত আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কেন্দ্র। বিআইএফপিসিএল নিজেও কেন্দ্রটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করে। তাই কয়েক বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে বারবার ত্রুটি দেখা দিলে বিষয়টি কেবল বয়সজনিত ক্ষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন প্রশ্ন ওঠে- নকশা, নির্মাণ, কমিশনিং, যন্ত্রাংশের মান, অপারেশনাল পদ্ধতি অথবা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো স্তরে কি কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রতিটি ইউনিটের অনির্ধারিত বিভ্রাট, পরিকল্পিত বিভ্রাট, ট্রিপের ইতিহাস, বয়লার-টিউব বিকল হওয়া, টারবাইনের ত্রুটি, মেরামত খরচ ও অকার্যকর সময় (ডাউনটাইম) আলাদাভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
দুই বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ ৪,৬৩৬ কোটি
রামপালের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রশ্নটি দেখা যায় এর আয়-ব্যয়ের কাঠামোতে। বিআইএফপিসিএলের আর্থিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটি ১.৩৩ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই বছর এনার্জি চার্জ বাবদ আয় ছিল প্রায় এক হাজার পাঁচ কোটি টাকা, আর ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল প্রায় এক হাজার ৩৬০ কোটি টাকা; অর্থাৎ উৎপাদিত বিদ্যুতের বিপরীতে পাওয়া অর্থের চেয়েও ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল বেশি।
পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ রামপাল প্রায় ৩.৪৫ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এনার্জি চার্জ ছিল প্রায় দুই হাজার ১৪২ কোটি টাকা এবং ক্যাপাসিটি চার্জ তিন হাজার ২৭৬ কোটি টাকা; অর্থাৎ ওই বছর মোট আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে।
বণিক বার্তা
‘একসময়ের ‘বাংলার ভেনিস’ বরিশাল এখন দারিদ্র্যে শীর্ষে’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ ছিল রংপুর। তবে সেই তকমা এখন বরিশালের। গত বছর প্রকাশিত দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের মধ্যে এখন বরিশালে দারিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি।
‘ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল’—প্রচলিত প্রবাদটি বরিশাল অঞ্চলের সমৃদ্ধির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। একসময় বরিশাল ‘বাকলা’ নামে পরিচিত ছিল। ‘বাকলা’ অর্থ শস্য ব্যবসায়ী। বরিশালের বন্দরে আসতেন দূর দেশের বণিক। কৃষি উৎপাদনে ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’—এমনই ছিল বরিশালের খ্যাতি। তবে সে সমৃদ্ধির দিন এখন অতীত।
নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অবকাঠামোর অভাব, শিল্পায়ন না হওয়া, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কর্মসংস্থানের অভাবে বরিশাল এখন দেশের দরিদ্রতম বিভাগ। অথচ গ্যাসের বৃহৎ মজুদ ভোলায়। অনেক জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উঠে এসেছেন এ অঞ্চল থেকে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বিভাগের সড়ক অবকাঠামো অবহেলিত ছিল, গ্যাস থাকলেও কাজে লাগানো যায়নি রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে। সেই সঙ্গে শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় তৈরি হয়নি কর্মসংস্থান। ভাগ্য বদলাতে তাই স্থানীয়দের বড় অংশ ঢাকামুখী হয়েছে।
শস্যভাণ্ডার বরিশালে কমছে ধান উৎপাদন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ইয়ারবুক অব এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে আউশ উৎপাদনে বরিশাল বিভাগ চতুর্থ, আমন উৎপাদনে পঞ্চম ও বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ ছিল রংপুর। তবে সেই তকমা এখন বরিশালের। গত বছর প্রকাশিত দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের মধ্যে এখন বরিশালে দারিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, দেশের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। কাজের খোঁজে সেখানকার মানুষ জড়ো হচ্ছে ঢাকায়।
ঢাকায় সবচেয়ে বেশি অভিবাসন ঘটেছে বরিশাল থেকে। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য অনুসারে, বরিশালের স্থানীয়দের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন রাজধানীতে বসবাস করছে। তবে এ অভিবাসীদের বড় অংশই দারিদ্র্যে নিমজ্জিত। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩ অনুযায়ী ঢাকা শহরের বস্তিতে থাকা প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ বরিশালের।
ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারের সুযোগ না হওয়ায় বরিশাল বিভাগ শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস অবকাঠামো, পাইপলাইন ও পরিকল্পিত শিল্পায়নের অভাবে সম্ভাবনাময় এ সম্পদ বরিশালের কার্যকর অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারেনি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্সে) তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস মজুদ আছে। ১৯৯৫ সালে ভোলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ছিল হাসানাত পরিবারের প্রভাব। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই। অন্যদিকে ঝালকাঠিতে ছিলেন আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর নেতা আমির হোসেন আমু। কিন্তু দীর্ঘদিনের এ আওয়ামী আধিপত্য অঞ্চলটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং তাদের এ প্রতাপের সময়ই বরিশাল আরো দরিদ্র হয়েছে।
ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার
বরিশাল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীনির্ভর হওয়ায় সেখানে সমন্বিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি পায়নি বলে মনে করেন অনেকে। ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া সরকার ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ব্যবহার করে একটি সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ বরিশালে দুটোরই উৎপাদন কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশালে আউশ উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে হয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টন। অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমন উৎপাদন ছিল ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে হয়েছে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টন।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাস-সংকটের চাপ জ্বালানি তেলে, বেড়েছে ভর্তুকিও’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস-সংকট এবং লোডশেডিং বাড়ায় বিকল্প হিসেবে জ্বালানি তেলের ওপর চাপ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেল ও অকটেনের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ শতাংশের বেশি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের বিক্রি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) থেকে জ্বালানি তেল বিক্রির এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিপিসি বলেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে ভর্তুকির অঙ্কও বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভর্তুকির পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির কয়েকটি এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসা, পুরোনো মডেলের কার্গো টার্মিনালের সঙ্গে সঠিকভাবে নোঙর করতে না পারাসহ নানা কারণে আগস্টে পরিকল্পনার ১০টি কার্গোর চারটিই আসতে পারেনি। ফলে গত আগস্টে এলএনজি থেকে গ্যাসের সরবরাহ ৪০ শতাংশ কম ছিল। দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে আগস্টে তা ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ হয়েছিল ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই সংকটের চাপ পড়ে জ্বালানি তেলে।
সূত্র বলেছে, গ্যাস-সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এবং দীর্ঘ সারি থাকায় বিকল্প হিসেবে সিএনজিচালিত যানবাহনে ডিজেল ও অকটেনের ব্যবহার বেড়েছে। শিল্পকারখানাও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন চালু রাখতে জ্বালানি তেল ব্যবহার করছে। এ ছাড়া লোডশেডিং বাড়ায় অফিস ও বাসাবাড়িতে ডিজেল-চালিত জেনারেটর ব্যবহার বেড়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ।
বিপিসির বিপণন শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে দেশে ৩ লাখ ২৩৩ টন ডিজেল বিক্রি হয়েছিল। অথচ চলতি বছরের আগস্টে বিক্রি ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৩ টন। ২০২৫ সালের আগস্টে অকটেন বিক্রি হয়েছিল ৩৪ হাজার ৩৩৬ টন। এ বছরের আগস্টে তা ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৫ টন।
তবে পেট্রলের বিক্রি তেমন বাড়েনি। গত বছরের আগস্টে পেট্রল বিক্রি হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৫৪ টন। এ বছরের আগস্টে হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৭৪ টন। অর্থাৎ পেট্রলের বিক্রি আগের সময়ের একই সময়ের চেয়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে; যা প্রতিবছর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাড়ে।
দেশ রূপান্তর
‘বিমান থেকে নামলেই অপরাধী শনাক্ত’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই আন্তর্জাতিক যাত্রীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলোসন্ত্রাসবাদ, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অভিবাসন এবং জাল ভ্রমণ নথির ব্যবহার প্রতিরোধ করা। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার তথ্য, সরকারি ওয়াচলিস্ট, ইন্টারপোলের রেকর্ড এবং অনুমোদিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডেটাবেজের সঙ্গে যাত্রীদের তথ্য যাচাই করা যাবে। এতে যাত্রী বাংলাদেশের আকাশসীমায় আসার আগেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে এবং সেখানে কোনো অপরাধী থাকলে বিমান থেকে নামামাত্রই শনাক্ত হবে।
বিমানবন্দরের পাশাপাশি স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও রেলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টগুলোও এর আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর আলাদাভাবে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৪০টি বিমান সংস্থা বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজারের মতো যাত্রী আসা-যাওয়া করছেন শাহজালাল, শাহ আমানত, ওসমানীসহ সব বিমানবন্দরে। কিন্তু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার না থাকায় যাত্রীবেশী অপরাধীরা সহজেই অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে আসছে। নানা কৌশলেও অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। চোরাচালান ও মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে বেশি। পাশাপাশি যাত্রী হয়রানির ঘটনাতো আছেই। লাগেজ নিয়েও ভোগান্তির অন্ত নেই। ইমিগ্রেশনে পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ঘাটতি থাকায় অপরাধীরা কৌশলে বের হয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দুর্বল আখ্যায়িত করে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে লোডাররা বিমান থেকে মালামাল নামানোর সময় পাচারের ঘটনা ঘটেছে। তা ছাড়াও লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখায়ও অপরাধ চক্র গড়ে উঠেছে। যাত্রী পরিবহনকে কেন্দ্র করে পরিবহন কোম্পানির চালক ও দালালদের হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানি হচ্ছেন যাত্রীরা। দর্শনার্থীদের শরীর তল্লাশি হয় না বললেই চলে। তা ছাড়া রানওয়েতেও অব্যস্থাপনা থাকছে। ইমিগ্রেশনে দুর্বলতা আছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী শনাক্ত: আন্তর্জাতিক যাত্রীদের বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করতে অ্যাডভান্স স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আগেই শনাক্ত করা হবে। কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকার আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট যাত্রীর তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে। সেটি মিলিয়ে দেখা হবে বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক ডেটাবেসের সঙ্গে। যাত্রী এআই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে সে ‘অপরাধী’ কি না তা জানা যাবে। যাত্রীর আগাম তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে এআই ক্যামেরাসহ উন্নতমানের যন্ত্রপাতি স্থাপনে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭টি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচলের চুক্তি আছে, ওইসব দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, তাদের সার্ভারের সঙ্গে আমাদের সার্ভারের তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে। আশা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় ক্যামেরাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে ইমিগ্রেশনকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের স্ক্যানিং তল্লাশির সক্ষমতা বাড়ানোসহ যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সবই করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর ও সীমান্ত নিরাপত্তায় মাস্টারপ্ল্যান: দেশের ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আওতায় বিদ্যমান ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম, প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড, ই-ভিজিট, ই-ভিসা এবং এআই-চালিত ‘সার্ভারেইন ডেটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম’ যুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাব সরকারের হাই কমান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনেরও অপেক্ষায় আছে মন্ত্রণালয়। এ জন্য অন্তত একশ কোটি টাকার ক্যামেরা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা আছে। সেগুলো শাহজালালসহ দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে নিরাপত্তা আরও বাড়াতে ইডিএস, ডুয়েল ভিউ এক্সরে স্ক্যানিং মেশিন, ডুয়েল ভিউ এক্সরে স্ক্যানিং মেশিন ফর কেবিন উইথ ট্রে রিটার্ন সিস্টেম, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং মেশিন ও এক্সপোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইডিটি), লিকুইড এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম ও ডাবল ক্যাব পিকআপ, ইটিভি কনস্যুমেবলস ফর এক্সপোসি ট্রান্স ডিটেক্টর মেশিন সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে: ২৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্বক্ষণিক চালু থাকা মিশন-ক্রিটিক্যাল ইমিগ্রেশন সিস্টেমে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যারের প্রায় ৮৫ শতাংশই পুরনো এবং ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে। ফলে ইমিগ্রেশনের আগে অপরাধী শনাক্তকরণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অভিবাসন ও ঝুঁকি নিরূপণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন এআই-সমর্থিত সফটওয়্যার ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বমানের ইমিগ্রেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এটি চালু হলে তদারকি করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), পুলিশ সদর দপ্তর এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। ইমিগ্রেশন ডেটার শতভাগ মালিকানা, কাস্টডি ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ নিয়ন্ত্রণ থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে। কোনো বেসরকারি বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সরাসরি মূল ডেটাবেজে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে শুধু রোল-বেসড অ্যাক্সেস ও অডিট লগ বজায় রাখা হবে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে সোর্স কোড, সিস্টেম ডকুমেন্টেশন, কারিগরি সক্ষমতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে তা হস্তান্তর করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘সিন্ডিকেটে বন্দি খাদ্যগুদাম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে খাদ্য বিভাগে। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরোনো দুর্নীতিবাজদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না কেউই। সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান-চাল সরবরাহ করতে পারছেন না প্রকৃত কৃষক। বিভিন্ন এলাকায় মধ্যস্বত্বভোগী ও মিলারনির্ভর সিন্ডিকেটের দাপটের কাছে হার মানছেন তারা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল কেনার সরকারি উদ্যোগ থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যগুদাম ঘিরে রয়েছে দালাল, ফড়িয়া ও প্রভাবশালী মহলের দৌরাত্ম্য। এদের সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিবাজ খাদ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিলার ও ডিলাররা যোগসাজশে গড়ে তুলছেন সিন্ডিকেট। ফলে কোথাও কৃষককে গুদামে ধান দিতে না দিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে, কোথাও আবার চুক্তিবদ্ধ মিলারের নিজের মিল না থাকলেও চাল সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তালিকাভুক্ত মিলারের একটি বড় অংশেরই নিজস্ব কোনো চালকল নেই। তাঁরা ভাড়ায় চালিত চালকল কিংবা অন্যের মিলকে নিজের দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি গুদামে ধান-চাল সরবরাহ করে আসছেন। এর সঙ্গে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে যুক্ত থাকছেন স্থানীয় পর্যায়ের গুদামকর্মী ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ফলে কাগজে কলমে মিলার থাকলেও বাস্তবে অন্যের মিল ব্যবহার করে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রংপুর, নওগাঁ, রাজশাহীসহ অনেক অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত মিলারের ৬০ শতাংশের বেশিসংখ্যকেরই মিল বা চাতাল নেই। অভিযোগ আছে, গুদামে খাদ্যশস্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কৃষকের বদলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলএসডিতে কৃষকের তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহারে অনিয়ম ঘটছে। এতে সরকারি দামে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
বরিশাল : বরিশালের খাদ্য সংরক্ষণ গুদামে পণ্য আনা-নেওয়ার পথেই বড় অংশ কালোবাজারে চলে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা চাল, গম ও আটা কালোবাজারে বিক্রি করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, খাদ্যগুদাম থেকে পণ্য ছাড় করার সময় ওএমএস ডিলার ও জনপ্রতিনিধিরা একটি অংশ বিক্রি করে দেন। ওই পণ্য গুদাম থেকে আর বের হয় না। পরে নতুন পণ্য গুদামে আনার সময় বিক্রি করা অংশ মাঝপথ থেকে কালোবাজারে চলে যায়। পণ্য বেচাকেনার প্রধান হিসেবে কাজ করেন গুদামের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. শাহাবুদ্দিন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওএমএসের একজন ডিলার রবি থেকে বৃহস্পতি প্রতিদিন ১ টন চাল ও ১ টন আটা বিক্রির জন্য উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু তাঁরা অর্ধেক চাল ও ৩-৪ বস্তা আটা ট্রাকে নিয়ে বিক্রি করেন। বাকি চাল ও আটা শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন। এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও তাঁর কাছে চাল বিক্রি করেন। বিক্রির লভ্যাংশ গুদামের কর্মকর্তাসহ খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা ভাগ হিসেবে পান।
