দেশ জুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব কমছে। অথচ বাড়ছে সিলেটে। মৃত্যুর মিছিলও চলছে। গতকাল একদিনে মারা গেছেন ৪ জন। এই মৃত্যু ফের শঙ্কা বাড়িয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এ জনপদে। হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীর চিকিৎসা দিতে দিতে ক্লান্ত চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন- টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। তবে পাহাড়ি ও হাওর এলাকার জনপথে শতভাগ টিকাদান কর্মসূচি সফল হয়নি। এ কারণে ওইসব এলাকার রোগীর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি হাম উপসর্গে প্রাপ্ত বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এ কারণে হাম নিয়ে ক্রমেই সিলেট অঞ্চলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সিলেটে গতকাল সন্দেহজনক হাম রোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার রোগী রয়েছেন।
সিলেটের কানাইঘাটের ১০ বছরের এক শিশু, হবিগঞ্জের বাহুবলের ১০ মাস বয়সী এক শিশু, সুনামগঞ্জের তিন বছর তিন মাস বয়সী এক শিশু ও জকিগঞ্জের সাত মাস পাঁচ দিনের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই চার মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও হাম রোগ মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৫৪ জনের। আর নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এদিকে নতুন করে কোনো রোগী নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত না হলেও সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৪৬ জন। বিভাগ জুড়ে হাসপাতালে বর্তমানে সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি আছেন ৪৯৫ জন। হামের জন্য বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬৭ জন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৪৯৫ সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন সর্বোচ্চ ১৮৬ জন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬২ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩২ জন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন এবং বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগী ভর্তি রয়েছেন। হামের জন্য সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪টি পিআইসিইউ রয়েছে। কয়েকটি এসডিইউ বেড রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- হাম উপসর্গ বা আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অতি গুরুতর অবস্থায় চলে যাওয়ার পর রোগীদের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফলে ক্রিটিক্যাল রোগীদের জরুরি অবস্থায়ও পিআইসিইউ দেয়ার সুযোগ কম থাকে।
শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খসরুজ্জামান রনি জানিয়েছেন- তার হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে পিআইসিতে সবসময় রোগী ভর্তি থাকে। তার হাসপাতালে শিশু রোগীর পাশাপাশি কয়েকজন বয়স্ক রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন- একজন বয়স্ক রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার কারণে তাকে আইসিইউতে নিতে হয়েছিল। এখন ওই রোগীর অবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সিলেট অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব অনেক পড়ে ধরা পড়ে। যখন রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পিকটাইম চলছিল তখন সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এ কারণে বর্তমানে ঢাকার পাশাপাশি সিলেটে বর্তমানেও প্রাদুর্ভাব রয়েছে। সিলেট জেলার সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- হামের প্রাদুর্ভাব সিলেটে হয়তো আরও এক থেকে দেড় মাস থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কমে আসবে। এখন যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
