উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসিয়ে রেখে শুরুর একাদশ সাজান নারী দলের হেড কোচ পিটার বাটলার। শুরুর একাদশে ছিলেন না ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার ও শামসুন্নাহারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। বৃটিশ কোচের তারুণ্যনির্ভর একাদশ সাজানোর এ পরিকল্পনা অবশ্য হিতে বিপরীত হয়েছে। ১০-০ গোলের লজ্জার হার দেখে বাংলাদেশ। হারের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে পুরোনো প্রসঙ্গ—মাঠের বাইরের হস্তক্ষেপ। মাঠের পারফরম্যান্সের দায় দিলেও মাঠের বাহিরে ফুটবলারদের কর্মকান্ডে খুশি নন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মাঝরাতে ফুটবলারদের ফোন করা, কনফারেন্স কল করার মতো বিষয় সামনে এনে বাটলার বলেন, ‘এভাবে আপনি একটি দল গঠন করতে পারেন না।’ মাঠের বাইরের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো বাটলারের জন্য নতুন নয়।
এর আগেও ব্যর্থতার দায় ঢাকতে মাঠের ভেতর ও বাহিরের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ সামনে এনেছিলেন। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার পর একই কথা বলেছেন বাটলার। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে নিজের দায় অবশ্য অস্বীকার করেন তিনি। প্রতিপক্ষের খেলার গতি সামনে বাংলাদেশের মেয়েরা দাঁড়াতে পারেনি বলে জানান বাটলার। এই মানের দলের বিপক্ষে লড়াই করার যোগ্যতা বাংলাদেশের হয়নি বলেও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের সব নীতির বাইরে গিয়ে খেলেছি, যা আমাকে হতাশ করেছে। আর দুঃখজনকভাবে আমরা বড় ব্যবধানে হেরেছি এবং এটাই আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে মাঠের ভেতরের সবকিছুর পুরো দায় আমি নিচ্ছি। মাঠের বাইরের দায় আমি নিচ্ছি না।’ মাঠের বাহিরে কি হচ্ছে সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কিছুটা পরিষ্কার করেন বাটলার। তার দাবি, দলের মধ্যে সিনিয়র ও তরুণ—দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। তরুণদের গড়ে তোলার নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘মাঠের বাইরে যা ঘটছে, তা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। মাঠের বাইরে কী হচ্ছে, তা তো আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।এখন তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল—হয়তো অনেকেই। এমনকি নারী উইংয়ের প্রধানও আমার কাজের উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করেন না, যা আমাদের ভিন্ন এক আলোচনায় নিয়ে যায়।’ তরুণদের সুযোগ করে দেয়া প্রসঙ্গে বাটলার বলেন‘আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের এমন একজন মেয়ে রয়েছে, যার বয়স মাত্র ১৫ বছর। এখন তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল—হয়তো অনেকেই আমাদের কাজের এই উন্নয়নমূলক দিকটি পছন্দ করছেন না।
তবে আপনাকে বুঝতে হবে যে আমাদের নিজস্ব কোনো স্বীকৃত লীগ নেই।’ ১৭ই সেপ্টেম্বর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের লক্ষ্য জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচটিও হয়তো আজ আপনারা যা দেখেছেন তেমনই হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের ফিরে যেতে হবে। দলে কিছু পরিবর্তন আনাতে হবে, পুনর্গঠন করতে হবে এবং দেখতে হবে এখান থেকে আমরা কীভাবে সামনে এগোতে পারি।’
