বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘরোয়া তিনটি ফরম্যাটের ক্রিকেট নিয়ে নতুন মোড়কে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট। টুর্নামেন্টের প্রস্তাবিত নাম ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এই আয়োজনে থাকছে ওয়ানডে ও প্রথম শ্রেণির চার দিনের ক্রিকেটও। টি-টোয়েন্টির ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় বরিশাল ও খুলনা স্টেডিয়ামের নাম রয়েছে। বিসিবির মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ রাব্বানি জানালেন সবকিছু ঠিক থাকলে এই দুই ভেন্যুতেই হতে পারে নতুন টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট। তবে দুই মাঠে খেলা আয়োজন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বরিশাল স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এখনো শেষ করে বিসিবিকে বুঝিয়ে দেয়নি। অন্যদিকে খুলনার ভেন্যুতে খেলা চালাতে প্রয়োজন ড্রেসিংরুম, টিভি সম্প্রচার রুম ও মিডিয়া সেন্টারের কাজ।
এরই মধ্যে দুটি ভেন্যু বিসিবির প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বরিশালে সম্ভাবনা থাকলেও খুলনার ক্ষেত্রে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ঢাকার নাম ভাবা হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১২ তারিখে খেলা শুরুর কথা রয়েছে। এ নিয়ে বিসিবি পরিচালক ও ফরচুন বরিশালের কর্ণধার মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে, এখনো তো পুরোপুরি হয়নি। তবে ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের ১০-১২ তারিখে খেলা, এর আগেই যেন সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। পিচ রেডি হয়েছে। আউটফিল্ডটা কিছুটা অসমান আছে, ওটাকে সমান করতে হবে। আর ঘাসগুলোকে বড় করার জন্য যেসব সার বা পরিচর্যা দরকার, তা দেয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ নভেম্বরের ১ থেকে ৫ই তারিখের মধ্যেই মাঠ খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।’ এই দুই ভেন্যুতে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিসিবির মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ রাব্বানি বলেন, ‘এটা অফিশিয়ালি ঘোষণা দেয়া হবে। আমরা বরিশাল আর খুলনা নিয়ে আলোচনা করছি। এটা আমাদের নতুন টুর্নামেন্ট, সেটা নিয়েই আলোচনা চলছে। বরিশাল ও খুলনা ভেন্যুর সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বোর্ড।’ অন্যদিকে খুলনা স্টেডিয়ামের উইকেটে খেলা সম্ভব হলেও গ্যালারি ও অবকাঠামোর মেরামত জরুরি। বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে লিফট সবই সেখানে বিকল। গ্যালারির চেয়ারগুলো বসার উপযোগী নেই। এই বিষয়ে ভেন্যু ম্যানেজার আল আমিন জানান, ‘হ্যাঁ, এখানে খেলা চালানো সম্ভব। আমাদের সুযোগ-সুবিধার (ফ্যাসিলিটিজ) কিছু কাজ সম্পন্ন করলে খেলা চালানো সম্ভব। ফ্যাসিলিটিজ বলতে ড্রেসিংরুমগুলো, ভিআইপি লাউঞ্জ, মিডিয়া সেন্টার—এগুলোতে কিছু কাজ করতে হবে।
গ্যালারির কিছু আসন ঠিক করে নতুন কিছু আসন বসাতে হবে। আর টয়লেটের ব্যবস্থা এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটগুলো সংস্কার করতে হবে।’ প্রশ্ন আছে খুলনা স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়েও। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হবে যে সময়ে তখন ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা আবহাওয়া কোনো সমস্যা তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন ভেন্যু ম্যানেজার আল আমিন। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের দিকে আবহাওয়া ভালো থাকে। তখন মাঠে সমস্যা নেই। মূল সমস্যা হচ্ছে ফ্যাসিলিটিজ—যেমন ভিআইপি লাউঞ্জ বক্স, লিফট ইত্যাদি। সার্ভিসিং করিয়ে নিলে লিফট চালু করাও সম্ভব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেভাবেই হবে। এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো গ্রিন সিগন্যাল পাইনি। উনারা চার দিন আগে পরিদর্শন করে গেছেন এবং রিপোর্ট নিয়ে গেছেন। উনারা ঢাকায় মিটিং করে বাজেট নির্ধারণ করবেন। হাতে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মতো সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে কাজগুলো করা গেলে টি-টোয়েন্টির জন্য দর্শক আসার মতো পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।’ বিসিবি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ শেষ করতে চায়। ডিসেম্বরের আয়োজন সফল করতে মাঠের উন্নয়নকাজ তদারকি চলছে। প্রতিনিধি দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্রুত চূড়ান্ত ভেন্যু তালিকা প্রকাশ করা হবে। বরিশাল ও খুলনার মাঠের উন্নয়নকাজ সময়মতো শেষ হলে দুই বিভাগেই ফিরবে ঘরোয়া ক্রিকেট। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মাঠ হস্তান্তর করলে ডিসেম্বরের আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে বোর্ড। বিকল্প ভাবনা হিসেবে ঢাকা প্রস্তুত রাখলেও বরিশাল ও খুলনাতেই আসর আয়োজন করতে চাইছে বিসিবি। এ নিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘মূলত সব সিদ্ধান্ত ঢাকা থেকেই হয়, বরিশাল থেকে তো আর হবে না। ঢাকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বরিশাল তালিকায় আছে— যদি বড় কোনো জটিলতা না হয়।’
