সিলেটে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে তারা

সিলেটে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে তারা

ফন্ট সাইজ:

এক সিটি করপোরেশন যে কাজ এতদিন করেছে এখন তিন সংস্থা মিলে একই কাজ আগামীতে করবে। সিলেটের উন্নয়নে তিন সংস্থার কর্ণধারদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব। নাগরিক সুবিধা বাড়াতে কাজ শুরু করেছেন তারা। এই তিন সংস্থা হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট ওয়াসা বোর্ড ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সিলেট বিএনপি’র তিন নেতা তিন সংস্থার দায়িত্বে। সরকার থেকে তাদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। নির্বাচনের পর পরই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পান জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। জুনের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান নগর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সর্বশেষ গত আগস্ট মাসের শুরুতে সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী।

সিটি করপোরেশন পুরনো প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে কাইয়ুম চৌধুরী সিটি করপোরেশনের মৌলিক কিছু শুরু করেছেন। বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডসহ মোট ৪২টি ওয়ার্ডের নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান করার কাজ শুরু করেছেন। কাইয়ুম চৌধুরী প্রশাসক হওয়ার পর প্রথম সিলেট আসেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সিলেটে সুরমা তীর ও নগর উন্নয়নের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার কাজের উদ্বোধন করে গেছেন। তার হাত ধরে নগরের অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এখন পরিচালিত হচ্ছে। নগরের জলাবদ্ধতা দূর করতে সাবেক মেয়র ও বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দীর্ঘমেয়াদি যে কাজ করেছিলেন সেটির ধারাবাহিকতা রেখেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। এ কারণে দীর্ঘ আড়াই যুগ পর এবারের বর্ষার মৌসুমে নগরে জলাবদ্ধতা হয়নি। সিলেট সিটি করপোরেশনের নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ৫টি জোনে বিভক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিলেট ওয়াসা বোর্ড বিগত সরকারের সময় গঠন করা হয়েছিল।

তবে কোনো কাজই হয়নি। সিলেট এখন মেগাসিটি। জনসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশুদ্ধ পানি এখনো সরবরাহ করা যায়নি নগরের অর্ধেক অংশে। সিটি করপোরেশন পানি সরবরাহ করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। নগরের দক্ষিণ অংশে পানির সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পানি সরবরাহের লাইন, জনবল, অর্থ সংকটে সব সময়ই সিটি করপোরেশন ভুগছে। বিগত সরকারের সময় সিলেট ওয়াসা বোর্ড গঠন করা হলেও ওয়াসার কোনো কার্যক্রমই শুরু করা হয়নি। মিফতাহ সিদ্দিকী ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। বর্তমানে খোঁজা হচ্ছে অস্থায়ী কার্যালয়। এ কারণে সিলেট ওয়াসার কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী।

তবে যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম শুরু করে তিনি নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান। এজন্য চ্যালেঞ্জ নিতে হলে সেই চ্যালেঞ্জ তিনি হাসিমুখে বরণ করে নিচ্ছেন। বলেন- মানুষের জন্য রাজনীতি। সুতরাং মানুষের সুবিধার জন্য কাজ করতে পারাটা সৌভাগ্যের। সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিউক এরইমধ্যে সিলেটের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। সাবেক ৫ বারের সিটি কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। সিটি পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই কাজ শুরু করেন।

ইতিমধ্যে নগরের ধোপাদীঘিরপাড়ে অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এ কার্যালয় ও কার্যক্রম উদ্বোধন পর্ব শেষ হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসহ দাপ্তরিক কাজ শুরু করা হবে। গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে কয়েস লোদী সিউকের কার্যক্রমের কথা জানান দিয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার তালিকাভুক্তির সময় বেঁধে দিয়েছেন। সিলেটকে একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন এলাকা গড়তে চান বলে কয়েস লোদী জানিয়েছেন। বলেন- তিনি হোমওয়ার্ক সেরেছেন। প্রথম চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন নগরে। সিলেট নগরকে একটি পরিকল্পিত নগরায়ণ করা তার জন্য চ্যালেঞ্জের। সে কাজ শেষ করার পর তিনি ধীরে ধীরে গ্রামেও পৌঁছে নিতে চান তার উন্নয়নের পরিধি।