উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীনকে চূড়ান্ত করলো এনসিপি

উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীনকে চূড়ান্ত করলো এনসিপি

ফন্ট সাইজ:

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকার উত্তর সিটিতে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করেন। এ ছাড়াও দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সার্বিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন দলের আহ্বায়ক। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ততা, পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় দক্ষিণ ও উত্তর মহানগরের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ও আরিফুল ইসলাম আদীবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গুলশানে গিয়ে মিছিল করে কোনো লাভ নেই। আপা আসবেন না, আপনাদেরও কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বিচারের আগে তাদের বাংলাদেশে কোনো সুযোগ নেই। আপা আপনি সেখানে থাকেন বা যেখানেই থাকেন, কোনো লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, আপনি যে জিয়াউর রহমানের আদর্শ-নীতি এবং খালেদা জিয়ার আদর্শ-নীতি থেকে সরে গিয়েছেন, নিজের মা-বাবার যে পথ ছিল, সেই পথে ফিরে আসুন। এই পথটাই ভালো।

তিনি বলেন, আমরা তাদের রিকনসিলিয়েশন বলি, রিহ্যাবিলিটেশন বলি, রিফাইন বলি- কতো কী! কিন্তু কোনোভাবেই তাদের বাংলাদেশে সুযোগ নেই। তাদের একটাই সুযোগ আছে- বাংলাদেশে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আদালত যদি তাদের অপরাধী বলে, তাহলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনুযায়ীই পরবর্তী সময়ে তাদের বাংলাদেশে থাকার বা রাজনীতি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বিচারের আগে বাংলাদেশে তাদের কোনো সুযোগ নেই।

বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে এনসিপি’র এই নেতা বলেন, বিচারালয়কে একটা দুর্নীতিগ্রস্ত জায়গা বানিয়ে দেয়া হয়েছে- বর্তমান সরকারের সময়ে আমরা সেটা পর্যবেক্ষণ করবো। তবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা গণতান্ত্রিক দল না- এটা দল ছিল না; বাংলাদেশে এটা ভারতের এক্সটেনশন ছিল। এখন আপা নাকি আবার ডিসেম্বরে বলছেন, ‘আমি ডিসেম্বরেও আসবো না।’ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক খুব আশায় বুক বেঁধেছিলেন। একটু গুলশানে গিয়ে মিছিল করছেন- লাভ নেই। আপা আসবেন না, আপনাদেরও কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এজন্য আপাকে বলেন, ‘আপা, আপনাকে আসসালামু আলাইকুম জানাচ্ছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দলে যোগ দিয়ে দিচ্ছি। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ এসব মামলা-হামলা, বিভিন্ন জায়গায় আপনারা পড়ে থেকে কোনো লাভ নেই।

গুলশানে মিছিলের কথা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, গুলশানে যারা আওয়ামী লীগ হয়ে নেমেছিল, তাদের ভালোভাবে সাইজ করা হয়েছে। এটা হয়তো মিডিয়ায় আসেনি। যারা নামবে, তাদের রাস্তায় ভালোভাবে সাইজ করা হবে- এটাই আমাদের সামগ্রিক নির্দেশনা।