গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। গতকাল বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকের এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস উইং।
প্রেস উইং জানায়, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা প্রেসিডেন্টের কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তান দূতের সাক্ষাৎ: এদিকে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। সাক্ষাতে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। গতকাল বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।

প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাতে হাইকমিশনার দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্যমেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। পাকিস্তানের হাইকমিশনার ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান।
চলতি বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এই যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা-পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট দুই দেশের মধ্যে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রেসিডেন্ট হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।