কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলকের ৩ আর্জি

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলকের ৩ আর্জি

ফন্ট সাইজ:

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে সারা দেশে নারকীয় গণহত্যা ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক মো. শাবাব হোসেন মেহের। শেখ হাসিনার নির্দেশে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর করেছিলেন বলে আদালতকে জানান এই সাক্ষী। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার শুনানিকালে নবম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা শাবাব হোসেন মেহের।

শুনানিকালে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালের কাঁচে ঘেরা কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নামাজ ও আইনজীবীর সঙ্গে আলাপের সুযোগ চান। পাশাপাশি তাকে পেছমোড়া করে হাতকড়া পরানো এবং ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে ‘পাইরেটেড উইন্ডোজ’ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে পলক বলেন, নবম সাক্ষীকে জেরা করার আগে তিনি তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি নামাজ পড়বেন। দুপুরের খাবার খাবেন। এসব কারণে সাক্ষীকে জেরা শুরুর আগে দুই ঘণ্টা সময় চান তিনি। এ ছাড়া গতকাল পলককে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আনা হয়। তার হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। মাথায় ভারী কিছু না দেয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাজতখানায় আনার সময় তাকে এভাবে আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল নিরাপদ জায়গা। এই অল্প জায়গার জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। পরে পলক বলেন, ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকিতে আছে। এখানকার কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালে যেন লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল পলকের আপত্তির বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানাতে বলেন।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম তখন আসামি যে সময় চেয়েছেন, তার বিরোধিতা করেন। প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামি পলককে যে নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার। ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের কিছু করার নেই। আর উইন্ডোজের বিষয়টি দেখা হবে। তারা আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, পাইরেটেড সফটওয়্যার যাতে ব্যবহার না করা হয়।

জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা: ২৩ বছর বয়সী সাক্ষী শাবাব হোসেন মেহের তার জবানবন্দিতে ২০২৪ সালের ৫ই জুন কোটা পুনর্বহালের রায় থেকে শুরু করে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি আদালতকে জানান, ১৮ই জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ, র‍্যাব ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও শটগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়।

জবানবন্দিতে মেহের আরও বলেন, ১৯শে জুলাই রামপুরা ব্রিজ, বনশ্রী ও আফতাবনগর এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও দলীয় ক্যাডাররা সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। ওইদিন আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন নিহত হন বলে তিনি জানতে পারেন। পরবর্তীতে ৫ই আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুনাইদ আহমেদ পলক ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের একটি কল রেকর্ড ফাঁস হয়। ওই রেকর্ডের বরাত দিয়ে মেহের বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং তার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পলক ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করেছিলেন। শেখ হাসিনা, জয়, পলক ও সালমান এফ রহমানসহ এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন এই শিক্ষার্থী।