‘জাপানে উইকেট ও বৃষ্টি হবে বড় চ্যালেঞ্জ’

‘জাপানে উইকেট ও বৃষ্টি হবে বড় চ্যালেঞ্জ’

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমসে ২০১০ সালে প্রথমবার ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়। সেবার স্বর্ণ পদক জেতে বাংলাদেশ। ফাইনালে আফগানদের হারায় লাল-সবুজের দল। সেই ফাইনালে মোহাম্মদ মিঠুন করেছিলেন ২২ রান। হারতে থাকা ম্যাচ বের করে আনেন সাব্বির রহমান রুম্মান। ১৮ বলে ৩৩ রান করেন তখন ১৯ বছরে পা রাখা এই ক্রিকেটার। এরপর এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট হয়েছে দু’বার। একবার স্বর্ণ জিতেছে শ্রীলঙ্কা, আরেকবার ভারত। স্বর্ণপদক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা সাব্বিরের ক্যারিয়ারে আর কোনো বড় অর্জন নেই। জাতীয় দলে খুব লম্বা সময় খেলার সুযোগ হয়নি। নানা আলোচনা-সমালোচনায় কেটেছে তার ক্যারিয়ার। এবারের এশিয়ান গেমসে নেই সাব্বির। তবে প্রত্যাশা করেন লিটনদের হাত ধরে ফের সোনা জিতবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘তখন আমি অনেক ছোট।

গেমসে স্বর্ণ জেতার পর বুঝতে পেরেছিলাম যে সেটি ছিল অনেক বড় অর্জন। এবার দারুণ একটি দল যাচ্ছে এশিয়ান গেমসে। আমরা যেবার স্বর্ণ জিতেছিলাম সেই দলের চেয়েও শক্তিশালী। লিটন দাস, শান্তদের সঙ্গে তানজিদ তামিমের মতো তরুণ ক্রিকেটার আছে। বোলিংটাও শক্তিশালী। আমার বিশ্বাস এবার স্বর্ণটা আসবে। হ্যাঁ, আমি দলে নেই খারাপ লাগা তো কিছুটা থাকেই। তাতে কী! যারা যাচ্ছে তাদের জন্য দোয়া, জিতলে তাদের জয়ে উল্লাস করবো। হারলেও তাদের পাশেই থাকবো। একটা কথা বলে রাখা ভালো, জাপান যেহেতু ক্রিকেট নেশন না তাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে উইকেট আর বৃষ্টি।’ গতকাল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা প্রথম দিনের অনুশীলনে অংশ নেন।

তবে প্রথম দিনের ক্যাম্পে ছিলেন না দলের কয়েকজন ক্রিকেটার। ছুটিতে থাকা শরিফুল ইসলাম ১৫ই সেপ্টেম্বর যোগ দেবেন। ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যাওয়া হাসান মাহমুদ এখনো দেশে ফেরেননি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে যাওয়া ক্রিকেটাররা আজ দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তাদেরও ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। দল নিয়ে সাব্বির বলেন, ‘যারা আছে তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা ট্যালেন্ট। আর টি-টোয়েন্টি হচ্ছে ওয়ান ম্যান শো। যে কারণে দেখবেন দলের কেউ বল হাতে আবার কেউবা ব্যাট হাতে দারুণ কিছু করে ফেলবে। আরেক বিষয় এবার দলে আমি না থাকলেও আছেন আশরাফুল ভাই। আমরা যেবার স্বর্ণ জিতেছিলাম সেবার তিনি ছিলেন দলের অধিনায়ক। এবার তিনি দলের ব্যাটিং কোচ। আশরাফুল ভাইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। তিনি দলকে ভালোভাবে গাইড করতে পারবেন। আর শান্তর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, শরিফুল, হাসানের মতো দারুণ বোলার আছে। আমার বিশ্বাস ভালো কিছুই হবে।’ জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় ১৯শে সেপ্টেম্বর থেকে ৪ঠা অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। ক্রিকেটে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২৪শে সেপ্টেম্বর।

র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৮শে সেপ্টেম্বর ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান গেমসে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে আছে মালয়েশিয়া, হংকং ও ওমান। পুরুষদের ক্রিকেটে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে। এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাকি দলগুলো গ্রুপ পর্বে লড়াই করবে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হবে ২৪ থেকে ২৬শে সেপ্টেম্বর। কোয়ার্টার ফাইনাল ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর, সেমিফাইনাল ১লা অক্টোবর এবং ফাইনাল ও ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ৩রা অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। আসরে ভারত, শ্রীলঙ্কা শক্তিশালী দল পাঠিয়েছে। লড়াইটা তাই বেশি জমজমাট হবে। তবে ভারত নয়, গেমসে জাপানের উইকেট আর আবহাওয়াকে হুমকি মানছেন সাব্বির।

তিনি বলেন, ‘সব দলই কম-বেশি শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। সবারই চোখ থাকবে স্বর্ণপদকে। ভারত আলাদা করে কিছু নয়, সবাই চ্যালেঞ্জ। তবে আমার কাছে মনে হয় বড় চ্যালেঞ্জ হবে উইকেট আর আবহাওয়া। বিশেষ করে জাপানে যেহেতু ক্রিকেট হয় না, এখানে উইকেট নিয়ে একটা চিন্তা তো থাকবেই। আরেকটা বিষয় হলো গেমসে বৃষ্টিতে খেলা পরিত্যক্ত হলে টসে ফল নির্ধারণ হয়। আমরা একবার টসে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিলাম। এটা বেশ চ্যালেঞ্জ হতে পারে।’ এশিয়ান গেমসের গত আসরে পুরুষদের ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্য ছাড়িয়ে আরও ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে দল। মিরপুরের ক্যাম্পে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও দলীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া
হচ্ছে।