আরিনা সাবালেঙ্কার রাজত্ব ভেঙে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে নারী এককের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় নিশ্চিত করেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা।
এই জয়ের আগেই উমেন’স টেনিস র্যাঙ্কিং (ডব্লিউটিএ) অনুযায়ী নারী এককের নতুন ‘নাম্বার ওয়ান’ হওয়া নিশ্চিত ছিল রিবাকিনার। ফাইনালের এই জয় তাকে সিংহাসনে বসালো ইউএস ওপেনের মুকুটসহ পূর্ণ রাজকীয় সম্মানের সঙ্গে। ২০২২ সালের উইম্বলডন ও চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা রিবাকিনা নিউ ইয়র্কের ট্রফিটি নিজের করে নিয়ে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করার থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে।
এখন তার প্রয়োজন কেবল ফ্রেঞ্চ ওপেনের মুকুট। প্রথম সেটে নিজের অন্যতম সেরা অস্ত্র প্রথম সার্ভিস খুব একটা ভালো না হলেও, দারুণ রিটার্ন শটে সাবালেঙ্কাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে প্রথম সেট পকেটে পুরেন রিবাকিনা। দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান বেলারুশ তারকা সাবালেঙ্কা। রিবাকিনার সামান্য ছন্দপতনের সুযোগ নিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। তবে নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে আবারও নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান সাবালেঙ্কা। রিবাকিনার গতিময় ও নিখুঁত রিটার্নের সামনে বারবার আনফোর্সড এরর করে বসেন তিনি। একপর্যায়ে প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টে ডাবল ফল্ট করলেও রিবাকিনা দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে ৬-২ সেটে জয় এবং ক্যারিয়ারের প্রথম ইউএস ওপেন শিরোপা নিশ্চিত করেন। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগেই সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাঙ্কেলে মারাত্মক চোট পান রিবাকিনা। এমনকি বেশ কয়েক দিন তিনি সোজা হয়ে হাঁটতেই পারেননি। ফলে ফ্ল্যাশিং মিডোজে তার অংশ নেয়া নিয়েই তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
সেখান থেকে ফিরে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে রিবাকিনা বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে এখানে আসছি, কিন্তু কখনো শেষ ষোলো পার হতে পারিনি। এবার কীভাবে যে কী হয়ে গেল, সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে না! দিন দিন নিউ ইয়র্কের প্রেমে পড়ে যাচ্ছি আমি।’ অন্যদিকে শীর্ষ স্থান হারানোর পর টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জিতে সেই দুঃখ ভোলার স্বপ্ন ছিল সাবালেঙ্কার। তবে একের পর এক ভুলের মাশুল গুনে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। বড় কোনো টুর্নামেন্টের ৯টি ফাইনালের মধ্যে এটি তার পঞ্চম হার। ড্রেসিংরুমে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না চেপে রাখা সাবালেঙ্কা পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলা সত্যিই কঠিন। ইচ্ছা ছিল আরও একটু ভালো খেলার। আশা করি আগামী বছর আবার ঘুরে দাঁড়াবো।’ ম্যাচের শুরু থেকেই সাবালেঙ্কার আগ্রাসী আচরণের বিপরীতে রিবাকিনার বরফশীতল শান্ত মানসিকতা মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।
মস্কোতে জন্ম নেয়া রিবাকিনা অবশ্য জানান, এটি তার খেলারই এক কৌশল। আবেগ গোপন রাখাকে তিনি নিজের বড় শক্তি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভেতরে অনেক অনুভূতি কাজ করে। কিন্তু আমি তা বাইরে প্রকাশ করি না। কারণ প্রতিপক্ষ যেন বুঝতে না পারে আমি কখন চাপে আছি বা হতাশ হচ্ছি।’ ২০১৮ সালে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ছেড়ে কাজাখস্তানের হয়ে খেলা শুরু করেন রিবাকিনা।
তখন তিনি ছিলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১৭৫ নম্বর স্থানে থাকা এক সাধারণ খেলোয়াড়।
সে সময় কাজাখস্তান টেনিস ফেডারেশন তার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল এবং সব ধরনের সহায়তা দিয়েছিল। এখন সেই দেশের শত শত শিশু তার সাফল্য দেখে টেনিস খেলা শুরু করেছে, যা তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।
