বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ে শচীন টেন্ডুলকারের একটি মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ড নিজের করে নিলেন জো রুট। এজবাস্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেন এই ইংলিশ ব্যাটার। এতে সর্বাধিক হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডে টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যান তিনি।
শনিবার পাকিস্তানের দেয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬৯ বলে ৮টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৬২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন রুট।
এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬৯তম ফিফটি। টেস্টে শচীন টেন্ডুলকারের রয়েছে ৬৮টি হাফ সেঞ্চুরি। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে রুটের লেগেছে ১৬৯টি টেস্ট ম্যাচ, যেখানে শচীন খেলেন ২০০ টেস্ট।
রেকর্ড গড়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুট বলেন, ‘বিশৃঙ্খলার মাঝেই আপনি দলের খেলোয়াড়দের আসল চরিত্র চিনতে পারবেন। এই সিরিজে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি এবং যেভাবে নিজেদের মেলে ধরেছি, তা সত্যিই দারুণ।’ চলতি গ্রীষ্মকালটি বেশ চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে ইংলিশদের। বেন স্টোকসের অবসর, কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বরখাস্ত হওয়া এবং মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক সামলে টেস্ট দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন রুট। দ্বিতীয় দফায় পুনরায় টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়ে দলকে একটি শান্ত ও স্থিতিশীল নেতৃত্ব উপহার দিয়েছেন তিনি।
মাসের পর মাস ধরে চলা এই ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে এসে স্বস্তি প্রকাশ করে রুট বলেন, ‘এই সিরিজের আগে দলের চারপাশে অনেক বিশৃঙ্খলা ছিল। তবে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমরা যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছি এবং সবাই দলের প্রত্যাশা বুঝতে পেরেছে, সেটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমরা শুরু থেকেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত তা নিখুঁতভাবেই করতে পেরেছি।’
তবে দল নিয়ে এখনই অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো নিখুঁত দল হয়ে উঠিনি। এটি চলমান একটি প্রক্রিয়া। সংস্কৃতির পরিবর্তন রাতারাতি হয় না, এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ধারণ করতে হবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, জো রুটের এই রেকর্ড শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে এক নতুন যুগের সূচনা। টেস্টে শচীনের সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের (১৫,৯২১) রেকর্ড ভাঙার দৌড়েও এখন রুটের (১৪,২৭৮) ব্যবধান আরও কমে এসেছে।
