তহশিলদারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ

কুমিল্লায় একই জমিতে একাধিক নামজারি নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

তহশিলদারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ভূমি অফিসের সাবেক তহশিলদার মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একই দাগের জমি নিয়ে একাধিক নামজারি করার সময় পূর্বের নামজারির তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী মোসা. রাশেদা বেগমের দাবি, বর্তমানে মজিবুর রহমান চৌয়ারা ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
১৩ই সেপ্টেম্বর সকালে গলিয়ারা এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সম্মেলনে রাশেদা বেগম এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি একই জমি নিয়ে পরবর্তীতে করা নামজারিগুলো তদন্ত করে বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

রাশেদা বেগমের অভিযোগ, একই জমির বিষয়ে আগে দুটি নামজারি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন করে পরবর্তীতে আরও ছয়টি নামজারি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩০শে জুলাই দৈনিক মানবজমিন ও কুমিল্লার রূপসী প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩১শে জুলাই কথিত নামজারির গ্রহীতারা তহশিলদার মজিবুর রহমানের পক্ষ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাশেদা বেগম।

লিখিত অভিযোগে রাশেদা বেগম দাবি করেন, একই দাগের জমি নিয়ে প্রথমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মামলা নম্বর ১৭৬৩২ ও ১৭৬৩৪-এর মাধ্যমে দুটি নামজারি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই জমি সংক্রান্ত আরও ছয়টি নামজারি করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগে উল্লিখিত নামজারিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ১৪২৯৭, ১৪২৯৮, ১৪৩৮৬, ১৪৪১৬, ১৪৪৬২ ও ১৫১৪৮ নম্বর নামজারি। এসব নামজারির আবেদনের নম্বরও তার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশেদা বেগমের দাবি, পূর্বের দুটি নামজারির তথ্য গোপন করে পরবর্তী নামজারিগুলো সম্পন্ন করার কারণে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ই-সেবার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ১০, ১৩ ও ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। এর আগে ৫ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কুমিল্লার আদালতে একই দাগের ভূমি সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করেন বলে দাবি করেন রাশেদা বেগম।
তার অভিযোগ, আদালতে বিষয়টি চলমান থাকা সত্ত্বেও সদর দক্ষিণ উপজেলা ভূমি অফিস থেকে তাকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। ৫ই আগস্ট থেকে ১৭ই আগস্টের মধ্যে চারবার নোটিশ দেওয়া হলেও এর মধ্যে কয়েকদিন সরকারি ছুটি ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১৭৬৩২ নম্বর নামজারিটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া জনৈক বাবর মিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ছেলেদের নামে থাকা ২৫-১৮১ ও ২৫-১৭৭ নম্বর খতিয়ান বাতিলের কার্যক্রম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রাশেদা বেগম। তার দাবি, উল্লিখিত নামজারিগুলোর সঙ্গে ওই আবেদনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
রাশেদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ১০ ও ১৩ই আগস্টের শুনানির তারিখে তাদের সময়ের আবেদন গ্রহণ না করে ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন বলেও জানান।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার স্বামীর ছোট ভাই ও তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে ও তার অনার্সপড়ুয়া মেয়েকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান রাশেদা বেগম।
সবশেষে, একই জমি নিয়ে পরবর্তীতে করা নামজারিগুলো তদন্ত করে বাতিল, সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত এবং সাবেক তহশিলদার মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন মোসা. রাশেদা বেগম।