সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাওয়া এক আবেদনে তার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, সারা দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে আসিফের বিরুদ্ধে।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। নতুন করে পাওয়া অভিযোগটি দুদকের ঢাকা কার্যালয়ের নথির সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থপাচার। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। সব মিলিয়ে বিদেশে পাচার করা অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়ী গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
