পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপি সরকার রাজ্যের মাদ্রাসা নিয়ে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে বলেছিলেন। এরপরই জেলায় জেলায় শুরু হয় মাদ্রাসার পরিকাঠামো যাচাই পর্ব। কলকাতাসহ রাজ্যের ২৩টি জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালিয়েছে রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, রাজ্যের প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার কোনও সরকারি অনুমোদন নেই।
এই সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রথম দফায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা তথা খারিজি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাদ্রাসাগুলোর বর্তমান পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পরেই অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। এছাড়া ১০০টি মাদ্রাসাকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে নোটিসের কপি।
রাজ্যটির সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি ২২টি জেলার সব মাদ্রাসা থেকে নথি সংগ্রহ করা হয়েছে, যে সমস্ত মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদেরও যথেষ্ট পরিকাঠামো গলদ রয়েছে। নিজেদের প্রমাণ করতে না পারলে সেই সমস্ত মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার। তবে যে সমস্ত মাদ্রাসার অনুমোদন রয়েছে সেগুলো চালু রয়েছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘বহুবার মাদ্রাসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে। তার তদন্ত চলছে। যারা সরকারের অনুমতি নিয়ে মাদ্রাসা চালাচ্ছে, সেগুলো চলবেই। তবে যেখানে সেখানে মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার অনুমতি দেবে না সরকার। সেই কাজ শুরু হয়েছে।’
