বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা হ্রাস

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

ফন্ট সাইজ:

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা হ্রাস করে জারিকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী ও আইন শিক্ষার্থীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াজ, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।

রিট আবেদনে গত ২৭ আগস্ট জারিকৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটি (স্মারক নম্বর: ৪৪.০০.০০০০.০৪৪.০১.০১৪.২০২৫-৩৬১) বাতিল ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, উক্ত পরিপত্রটি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলার রায়ের পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক।

রিটে উল্লেখ করা হয়, এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫) ৬ মার্চ পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ বিতর্কিত পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছিল।

আবেদনকারীরা জানান, পূর্ববর্তী আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পুনরায় একই ধরনের পরিপত্র জারি বিচার বিভাগের মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

রিট আবেদনে পরিপত্রটির কার্যকারিতা অবিলম্বে স্থগিত করার পাশাপাশি তা চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা এবং বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।