প্রযুক্তির দুনিয়ায় কতরকম সুবিধা। সবকিছু প্রায় হাতের নাগালে। সম্পর্কের মাধ্যম আবার প্রযুক্তিও। তবে এর পাশাপাশি বিড়ম্বনাও কম নয়। ফাঁদতো রয়েছেই। এখানে আবার কেউ সম্পর্কের পর পরিণয়ে যাচ্ছেন না, তেমনই বেরও হচ্ছেন না। অভাব স্বীকৃতি বা স্পষ্টতার। এই পরিস্থিতিকে বলা হচ্ছে ‘মেবিলেশনশিপ’ (Maybelationship) বা ‘মেবিলেটারশিপ’ (Maybelatership)। এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে ভারতের গণমাধ্যম এইসময়। এতে বলা হয়, সড়কে তীব্র গতিতে গাড়ি চলছে। গাড়িতে বাজছে অরিজিৎ সিংয়ের গান। স্টিয়ারিংয়ে বসে ইন্দ্র। পাশের সিটে অভিদীপ্তা। বহুদিনের সম্পর্ক তাদের। দুই পরিবারের সকলেই জানে এই সম্পর্কের কথা। সমাজের চোখে ওরা স্বামী-স্ত্রী না হলেও মনে মনে ওরা পৌঁছে গিয়েছে বহুদূর। দু'জনের অফিস একই পাড়ায়, উইক অফ-ও একই। তাই সময় পেলেই ওরা বেরিয়ে পড়ে নিরুদ্দেশের পথে। ফেরার তাড়া নেই, গন্তব্যহীন, অন্ধকার পথে গাড়ি ছোটাতে মন্দ লাগে না। কিন্তু জীবন? কোনও একটা সময়ে এসে সে তো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে চায়।
ইন্দ্র এবং অভিদীপ্তার মা-বাবাদেরও বয়স হচ্ছে। সকলেই চান ওরা ঘর বাঁধুক। ওরা যে চায় না, তা নয়। ছোট ছোট বিষয়ে দু’জন মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। ওদের বন্ডিং দেখে বন্ধুদের ঈর্ষাও হয়। তবে বিয়ের প্রসঙ্গ সচেতন ভাবেই মিঁয়া-বিবি এড়িয়ে যায়। মা-বাবাদের প্রশ্নের উত্তরে ইন্দ্র-অভিদীপ্তা জানায়, ‘এখনও কিছু ভাবিনি, দেখা যাক কী হয়!’ আধুনিক সম্পর্কের সমীকরণে এই অদ্ভুত কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থাকে মনোবিদরা নাম দিয়েছেন ‘মেবিলেশনশিপ’ বা ‘মেবিলেটারশিপ’।
‘মেবিলেশনশিপ’ বা ‘মেবিলেটারশিপ’আসলে কী?
মনোবিদদের মতে, এটি ক্যাজুয়াল ডেটিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি জটিল এক মানসিক পরিস্থিতি। এখানে আকর্ষণ, আবেগ এবং অধিকার বোধের অভাব নেই। অভাব কেবল একটি জিনিসের সেটি হলো ‘স্বীকৃতি ও স্পষ্টতা’। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা সম্পর্কেরও একটি দিকনির্দেশ থাকে। কিন্তু মেবিলেশনশিপের ক্ষেত্রে দুটো মানুষ কেবল ‘সম্ভাবনা’-র উপর ভর করে ঝুলে থাকে। সহজ কথায়, ‘সম্পর্কের সব উপাদান মজুত, কিন্তু ডেস্টিনেশন অজানা।’
কেন বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই কমিটমেন্ট বা স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে থাকতে চান?
১) কমিটমেন্ট করার অর্থ অন্য সমস্ত বিকল্পের দরজা বন্ধ করে দেওয়া। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ভয় থেকেই মানুষ অস্পষ্টতার আশ্রয় নেয়।
২) সম্পর্কের কোনও আনুষ্ঠানিক নাম না থাকলে রিজেকশনের যন্ত্রণা থাকে না। ‘আমরা তো খুব ভালো বন্ধু ছিলাম’ ভাবলে পিছিয়ে আসাও সহজ হয়।
৩) একটি সুস্থ সম্পর্ক দায়বদ্ধতা, যত্ন, বোঝাপড়া এবং সময় চায়। মেবিলেশনশিপে তেমন কোনও উপাদান ছাড়াই সম্পর্কের উষ্ণতা পাওয়া যায়।
৪) অতীতে ভালোবাসা বা বিশ্বাসে আঘাত পাওয়া মানুষ নতুন করে নিজেকে মেলে ধরতে ভয় পান। ফলে এই ‘মেবি জোন’-কেই তাঁরা নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করেন।
শুরুতে কোনও শর্ত না থাকায় এই অনিশ্চয়তা কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিলেও, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নেয় তীব্র হতাশায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যখন একপক্ষ মানসিক ভাবে বেশি জড়িয়ে পড়ে, তখন অন্য সঙ্গীর ক্যাজুয়াল আচরণ, ব্যবহারে হেরফের নিয়ে মানসিক টানাপড়েন শুরু হয়। অনিশ্চিত সম্পর্কের ঝুলন্ত দড়ি ধীরে ধীরে অবসাদ এবং উদ্বেগের মতো মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ডেকে আনে।
ডেটিংয়ের নতুন ফাঁদ ‘মেবিলেশনশিপ’-এ পা দিচ্ছেন না তো!
মানবজমিন ডিজিটাল
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার), ২০২৬, ১১ঃ২৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
