গুলশানে মিছিল গ্রেপ্তার ৩২

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেয়া অন্তত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে। শনিবার সকালে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ জন। যারা সরাসরি ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ছিল।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা সেখানে মিছিল করার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দু’টি রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিলে সরাসরি অংশ নেয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-৩ নম্বর সড়কের কেএফসি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। সেখান থেকে ককটেলসহ আব্দুর রহিম (৪৯) ও মো. আরাফাত (২০) নামে দু’জনকে আটক করে পুলিশ।

২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড: এদিকে রাজধানীর গুলশানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১২ই সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- মো. রহিম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান, মো. মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াসার (সাফায়াত), মো. রাসেল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহমেদ, মো. সোহরাব, মো. হযরত আলী, মো. আক্তারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, মো. হাবিব সিকদার, মো. জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভাণ্ডারী, বাবুল গোপ, মো. ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, মো. নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।

এদিন ২৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ কারণ দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন। শুনানিতে তিনি জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানতে গ্রেপ্তার আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ সময় রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আরাফাত নামে একজনকে শিশু হিসেবে দাবি করায় রোববার কাগজপত্র দাখিল ও অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।