রাজধানী ঢাকার লালবাগের একটি ভাড়া বাসা থেকে মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নামের এক আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই থেকে তিনদিন আগে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার (১২ই সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালবাগ থানার শহীদনগরের বউবাজার ৩ নম্বর গলির ১০/১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গোয়ালগাঁও গ্রামে।
পুলিশ জানায়, পাশের কক্ষের এক ভাড়াটিয়া দুর্গন্ধ পেয়ে দরজায় উঁকি দেন এবং হালকা ধাক্কা দিতেই আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আনোয়ার হোসেন জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তবে নিয়মিত কোর্টে যেতেন না।
নিহতের বড় ভাই দোলোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (১০ই সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে আনোয়ারের মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। আমার ভাই (৪ঠা সেপ্টেম্বর) থেকে ওই বাসায় ভাড়া নেয়, মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভাই আলাদা থাকতো। ও কারও সঙ্গে খুব একটা কথাও বলতো না, পরিবারের কারও সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ রাখতো না। একা একা নিজের মতোই থাকতো। আমার ভাই আনোয়ার নেশাগ্রস্ত ছিল ও অবিবাহিত ছিল। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনোয়ার ছিল সবার ছোট।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, আনোয়ার হোসেন জজ কোর্টের এডভোকেট ছিলেন এবং ওই বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি দুই থেকে তিনদিন আগের হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তিনি জজ কোর্টের আইনজীবী হলেও নিয়মিত আইন পেশায় যেতেন না। তিনি বিষণ্নতা ও মাদকাসক্তিতে ভুগছিলেন এবং ঘরের ভেতরেই মাদকসেবন করতেন। মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
