লাইসেন্স বাতিল, পুনরায় শুনানির দাবি বামা’র

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশন (বিসিপিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনকে (বামা) একীভূত করার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশনা দিয়ে বামা’র লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিকে পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণের দবি জানিয়েছে বামা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বামা’র অধিকাংশ সদস্য আগে ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের সদস্য ছিল এবং এখনো অনেকে সদস্য হিসেবে রয়েছে। ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের সদস্য ১,২৩০ এবং বামা’র সদস্য ২০।

মন্ত্রণালয় বলেছে, দু’টি সংগঠনের লক্ষ্য একই হওয়ায় একই খাতে একাধিক সংগঠন থাকায় বালাইনাশক আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বালাইনাশক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তদের একটি সংগঠন থাকাই যুক্তিযুক্ত। এতে বলা হয়, এই অবস্থায় বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এর ৮ ধারা এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫ এর ১০ বিধির প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বামাকে বিসিপিএ’র সঙ্গে একীভূত করার উদ্দেশ্যে বামা’র অনুকূলে দেয়া লাইসেন্সটি বাতিল করা হলো। এদিকে বিসিপিএ কর্তৃক বামা’র ট্রেড অর্গানাইজেশন (টিও) ও লাইসেন্স বাতিলের জন্য দায়ের করা আপিল পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণের আবেদন করেছে বামা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত এক চিঠিতে এই আবেদন জানান বামা’র সভাপতি কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এর আগেও কয়েকবার শুনানি হয়েছে। সেই শুনানিতে প্রশ্ন ছিল- দেশে বালাইনাশক উৎপাদন করলে ক্ষতি কোথায়? বিসিপিএ-এর সঠিক জবাব দিতে পারে নাই। তিনি বলেন, তারা ২৫ বছর ধরে আমদানি করছে। অথচ তারা দেশে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের চিন্তা করছে না। বামা’র লাইসেন্স বাতিল বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে যায় না।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনোভাবেই আমদানিকারক ও উৎপাদকদের একটি এসোসিয়েশন থাকতে পারে না। ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশন মূলত আমদানিকারকদের সংগঠন এবং অতীতে দেখা গেছে, তারা দেশে এগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আমদানিকে উৎসাহিত করেছে। তাই উৎপাদক ও ম্যানুফ্যাকচারারদের পৃথক দু’টি সংগঠনকে একীভূত করা যৌক্তিক নয়। তাছাড়া বাণিজ্য সংগঠন আইনের ধারা ৮ এর সঙ্গে ধারা ৫ মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হবে যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন আইনসম্মত হয়েছে কি-না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে যখন এগ্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন হতো না, তখন আমদানিকারক ও বর্তমান ম্যানুফ্যাকচাররা সবাই বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের সদস্য ছিল।

পরে এই এসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করলে তারা ‘বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন (বামা)’- নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক সংগঠনের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করে। ২০২২ সালের আগস্টে লাইসেন্স পান তারা।
বর্তমানে বামা’র সদস্য সংখ্যা ২২। বাংলাদেশে এগ্রোকেমিক্যাল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধি-বিধান আমদানিকারকদের পক্ষ থাকায় গত তিন বছর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে তা তুলে ধরে আসছে ম্যানুফ্যাকচাররা। তখন থেকেই বামা ও ক্রপ প্রোটেকশন এসোসিয়েশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ম্যানুফ্যাকচারারদের সুবিধা দিয়ে এগ্রোকেমিক্যাল পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমায় সরকার। এ ছাড়া আমদানি নীতি আদেশে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল কান্ট্রি, সিঙ্গেল সোর্স’ প্রথা বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।