জয় দিয়েই নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। শনিবার চীনের হুলুনবুইর সিটির মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারালো লাল-সবুজের মেয়েরা। দুর্দান্ত এই জয়ে মহাদেশীয় আসরে নিজেদের ইতিহাসের সেরা পঞ্চম অবস্থান নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয়ে সপ্তম বাংলাদেশের ছেলেরা।
লাল-সবুজের ছেলেদের প্রথম কোয়ার্টারে এগিয়ে নেন মুন্না ইসলাম। এই কোয়ার্টারেই সমতায় ফেরে চাইনিজ তাইপে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে মোহাম্মদ রিফাতের গোলে ব্যবধান বাড়ায় বাংলাদেশ। অবশ্য দ্রুতই আরেকবার সমতায় ফেরে প্রতিপক্ষ দল। এরপর আর সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। একে একে গোল করেন তায়েব আলী, মোহাম্মদ রিফাত ও আবদুল্লাহ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি উপহার দেয় দুই দল। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মেয়েরা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি। গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথম দুই কোয়ার্টার। তবে বিরতির পর ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারে ডেডলক ভাঙে বাংলাদেশ। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। এরপর ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। দারুণ এক ফিল্ড গোলে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন কনা আক্তার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৫৯ মিনিটে মালয়েশিয়া একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। চ্যালেঞ্জার পুলে নিজেদের চার ম্যাচের সবগুলোতে জয় পায় তারা-চাইনিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকং চীনকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পুলের সেরা হয় মেয়েরা।
যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে এলিট পুলের শক্তিশালী দল জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়। সেই পরাজয়ে আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগও হাতছাড়া হয়। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চের টিকিট পেতে হলে সেমিফাইনালে ওঠা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে বিশ্বকাপের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। যদি আগামী বছর মেয়েদের জুনিয়র হকি বিশ্বকাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হয়, তবে আয়োজক দেশ হিসেবে স্বাগতিক কোটার বাইরে এশিয়ার অন্য দলগুলোর জন্য আরেকটি সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ সরাসরি খেলার টিকিট পেলে মহাদেশীয় কোটা থেকে পরবর্তী সেরা দল হিসেবে বাংলাদেশ সেই সুযোগটি পাবে। ২০২৩ সালের আসরে নবম স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা দলটি এবারের টুর্নামেন্ট শেষ করলো ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক মাত্র হারের অনবদ্য পারফরম্যান্সে।
