ধানমণ্ডি স্পোর্টস ক্লাব দখলের অভিযোগ অনিশ্চয়তায় ক্রিকেটাররা

ফন্ট সাইজ:

ধানমণ্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে ঘিরে দখলের অভিযোগ উঠেছে। ধানমণ্ডি সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান ক্লাবটি দখলে রেখেছে বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে ধানমণ্ডির দুই ক্রিকেটার জিয়াউর রহমান ও ফজলে রাব্বি এই অভিযোগ করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ব্যবস্থাপনা বদলের আশঙ্কা, পেমেন্ট জটিলতা এবং নতুন কারও অধীনে খেলার অনিশ্চয়তার কথা।

দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের সঙ্গে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠকদের বাইরে নতুন কোনো পক্ষ ব্যবস্থাপনায় এলে তাদের অধীনে খেলা নিয়ে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে মনে করছেন খেলোয়াড়রা। সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর জানান, ক্লাবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আগের ব্যবস্থাপনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা মোটের ওপর ইতিবাচক। তবে ৫ই আগস্টের পর থেকে পেমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতার কথা শুনেছেন এবং নতুন একটি পক্ষ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলেও জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘ধানমণ্ডি ক্লাব যখন শুরু থেকে আসি, ইশতিয়াক ভাই (ইশতিয়াক সাদেক) আমাদের সঙ্গে জয়েন হয়, আমি প্রথম বছর থেকে আট বছর খেলছি।

৫ই আগস্টের আগ পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। এখানে পেমেন্ট কোনো ইস্যু ছিল না। সবসময় চ্যাম্পিয়ন টিম করেছে, ভালো টিম করেছে, ভালো পরিবেশও ছিল, (প্রিমিয়ার লীগে) রানার্সআপও হয়েছে। এখন ৫ই আগস্টের পরে একটু পেমেন্ট ইস্যু হয়েছে এবং শুনলাম যে ধানমণ্ডি কমিউনিটি নিয়ে নিচ্ছে। এরকম বিভিন্ন ইস্যু একটু শুনি।’ ক্লাবের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন নিয়ে আপত্তির জায়গাটিও স্পষ্ট করেছেন জিয়াউর। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা সংগঠকদের বাইরে ভিন্ন কোনো পক্ষ দায়িত্ব নিলে সেটি ক্লাবের জন্য
ইতিবাচক নাও হতে পারে। নতুন কোনো পক্ষ দায়িত্ব নিলে খেলোয়াড়দের অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উঠে এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। বিশেষ করে ক্রিকেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকা কারও হাতে দায়িত্ব গেলে দল পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এদিকে ক্লাবের পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঘোষণার পরও ধানমণ্ডি স্পোর্টস ক্লাবের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে দাবি করেছেন ক্লাবসংশ্লিষ্টরা। গত ৯ই মে ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ধানমণ্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির পাশাপাশি আরচারি, শুটিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও স্কোয়াশসহ পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এরই মধ্যে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পুনর্গঠনের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লাবের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও। ক্লাবের সদস্যদের অভিযোগ, একাডেমির ফি সংগ্রহে ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার কমে নগদ লেনদেন বেড়েছে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অনিয়ম হচ্ছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ক্রিকেট দল নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ধানমণ্ডি স্পোর্টস ক্লাব।
কিন্তু দলের নিবন্ধন, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় ধরে রাখা এবং বাজেট-কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে বিসিবির হস্তক্ষেপ বা অন্তত আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন ক্রিকেটাররা। তাদের মতে, একটি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ করে পরিবর্তন এলে সেটির জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকা দরকার। তা না হলে একই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে অন্য ক্লাবেও দেখা দিতে পারে।