ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর দ্বৈরথগুলোর একটি ম্যানচেস্টার ডার্বি। ঐতিহ্য, অহংকার এবং পয়েন্ট টেবিলের হিসাবনিকাশ মিলিয়ে এই ম্যাচ সবসময়ই ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি উন্মাদনা দেয়। আজ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় ঐতিহ্যবাহী ওল্ড ট্রাফোর্ডে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। দুই দলের এই লড়াই কেবল নব্বই মিনিটের খেলা নয়, বরং পুরো ম্যানচেস্টার শহরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক অন্তহীন লড়াই। চলতি মৌসুমে দুই নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীর শুরুর গল্পটা একদমই আলাদা। পেপ গার্দিওলার অধ্যায়ের পর দলটির ডাগআউটে নতুন কোচ হিসেবে এসেছেন এনজো মারেস্কা। তার অধীনে শুরুটা দারুণ হয়েছে সিটির। প্রিমিয়ার লীগে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড বজায় রেখে পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তারা। বোর্নমাউথের বিপক্ষে নাটকীয় জয় দিয়ে শুরু করার পর ক্রিস্টাল প্যালেস ও কভেন্ট্রি সিটিকে অনায়াসেই হারায় সিটিজেনরা। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে পোর্তোর বিপক্ষে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা ওল্ড ট্রাফোর্ডে পা রাখছে। অন্যদিকে, মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ইউনাইটেডের পথচলা কিছুটা মিশ্র। গত মৌসুমের শেষ দিকে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলটি নিজেদের অবস্থান বেশ উঁচুতে নিয়ে গেলেও বর্তমান মৌসুমে শুরুটা কাঙ্ক্ষিত হয়নি।
প্রচারের আলোয় থাকা হাল সিটির বিপক্ষে উদ্বোধনী দিনে হোঁচট খাওয়ার পর ইপসউইচকে বড় ব্যবধানে হারায় রেড ডেভিলরা। আবার এভারটনের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়। তবে চ্যাম্পিয়নস লীগে সাবাহের বিপক্ষে বড় জয় দলের ফরোয়ার্ড লাইনকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে উত্তাপের পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন সিটির নতুন রিক্রুট এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তিনি বর্তমান সিটিকে ‘ম্যানচেস্টারের রাজা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত দেড় দশকে সিটির ধারাবাহিক সাফল্য এবং প্রিমিয়ার লীগে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণেই মূলত এই ধরনের মন্তব্য এসেছে। এ বিষয়ে কোচ মারেস্কা বলেন, ‘এলিয়ট সম্ভবত গত ১৫ বছরের সিটির অবিশ্বাস্য সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই এটি বলেছে। সে ওই সময়ে বড় হয়েছে, যখন ম্যানচেস্টার সিটি চরম আধিপত্য বিস্তার করেছে। তাই তার এমন বলা স্বাভাবিক।’ তবে এসব তর্কে কান না দিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সেই নজর দিতে চান ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক। তার দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতায় ডার্বির রূপ বদলাতে দেখেছেন তিনি। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের আমলের সেই ‘নয়েজি নেবারস’ থেকে শুরু করে বর্তমানের বৈশ্বিক মহারণ-সবকিছুরই সাক্ষী এই ইংলিশ কোচ। সেসব মনে করে ক্যারিক বলেন, ‘আমি যখন প্রথম ক্লাবে আসি, পরিস্থিতি এখনকার মতো ছিল না।
গত ২০ বছরে এই দ্বৈরথ অনেক বদলে গেছে এবং বিকশিত হয়েছে। ভিনসেন্ট কোম্পানির সেই হেডার বা ওয়েন রুনির বাইসাইকেল কিক-এই ম্যাচগুলো সবসময়ই স্পেশাল।’ দুই দলের স্কোয়াডের দিকে তাকালে রোমাঞ্চের আরও খোরাক মিলবে। ম্যান সিটির আক্রমণভাগে আর্লিং ব্রুট হালান্দ দারুণ ছন্দে আছেন। গোল করার প্রতিযোগিতায় তিনি এবারও সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে চান। অন্যদিকে, ইউনাইটেডের হয়ে ম্যাথিউ কুনহা এবং ব্রুনো ফার্নান্দেজরা মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বড় হুমকি তৈরি করতে প্রস্তুত। কোবি মাইনুর পাসিং ভিশন এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মিডফিল্ডের বল দখলের লড়াই আজকের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচটি রেড ডেভিলদের চলতি মৌসুমের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে। সিটির বিপক্ষে জয় পেলেই টেবিল ও আত্মবিশ্বাসে অনেকখানি এগিয়ে যাবে ইউনাইটেড। আর হেরে গেলে পুরোনো হতাশা চেপে বসতে পারে দলটির ওপর।
