মোদির নেতৃত্বে বড় সমঝোতা, যৌথ ঘোষণায় একমত ব্রিকস

মোদির নেতৃত্বে বড় সমঝোতা, যৌথ ঘোষণায় একমত ব্রিকস

ফন্ট সাইজ:

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস এবার একটি যৌথ ঘোষণায় একমত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনা শুরুর সময় এই সমঝোতা হয়েছে, যা জোটটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব ও ভূমিকা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস এখন পরিণত একটি জোটে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের ঐক্য ও মতৈক্যকে এখন বাস্তব ফলাফলে রূপ দেয়ার সময় এসেছে।
উপসাগরীয় সংঘাতকে কেন্দ্র করে সদস্যদেশ ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যেও এবারের সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন এক সময়ে দিল্লিতে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে।

আগস্টের বড় একটি সময় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে বিরতি ছিল। এর মধ্যেই ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে।
রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনাকারীরা একটি যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ঘোষণাটিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেকোনো দেশের একতরফা আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে এতে।

শনিবার পরবর্তী সময়ে ব্রিকস নেতারা ঘোষণাটি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে, গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি তাদের নেই।
যৌথ ঘোষণা নিয়ে মন্তব্য জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স বলছে, এদিন আলোচনার সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ইস্যুতে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে ভারত ধারাবাহিকভাবে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি অবগত এক ভারতীয় কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো ছিল বিশেষভাবে জটিল একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।