দেশ জুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশ জুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। গতকাল তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু: সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ১৪১ জনে দাঁড়ালো। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ৭৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের প্রাণহানি হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (২৪৯ জন) ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন ছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনা বিভাগে ৬০, রংপুর বিভাগে ৩৮, রাজশাহী বিভাগে ৩৩ ও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৭২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লিখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ২৫ জন ছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪, বরিশাল বিভাগে ১২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০, রাজশাহী বিভাগে ৬ এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে মোট দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

মুগদা হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বললেন: ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনিয়মের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কিনা- প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অফকোর্স দায় আছে। শুক্রবার হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমি ১৫-২০ জন রোগীর কাগজ দেখেছি, সব ফটোকপি নিয়েছি। এই সকল ইনভেস্টিগেশন বাইরে থেকে করানো হয়েছে। গতকাল একটা ভিডিও বের হয়েছে, কারা কারা এসেছে-ওই নামগুলোও আমার কাছে আছে। ওইটাই দেখে গেলাম। ওই অনিয়মটা দেখে গেলাম, আপনারাও (সাংবাদিকরা) দেখেছেন। পরবর্তীতে ব্যবস্থা যা নেয়ার, আমরা দেখবো। দোয়া রাইখেন- অনিয়ম থাকবে না। হয়তো আমি থাকবো, আর না হয় অনিয়ম থাকবে-দুইটার একটা হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার অনিয়ম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একদিনে সব পারবো-এটা বলি না, বাট যখন যেটা জানবো, শক্ত হাতে এটা দমন করবো। এবং এখানে যা দেখে গেলাম, জাস্ট ওয়েট ফর অ্যানাদার টোয়েন্টিফোর আওয়ারস হোয়াট আই অ্যাম গোয়িং টু ডু। মন্ত্রী বলেন, বাইরের সততা, জমজম আরও কী কী ফেরিওয়ালার মতো ব্লাড কালেক্ট করে নেয়।

বাইরে থেকে আমার রোগীরা টাকা দিয়ে ব্লাড টেস্ট করায়। একটা শূন্য ভাণ্ডার নিয়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি ফ্যাসিস্টদের পরে। এরপরও আমরা কষ্ট করে টাকা দিচ্ছি, জনগণের টাকাই জনগণের জন্য দিচ্ছি। সেই টাকার সুবিধা জনগণ এখানে পাচ্ছে না। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের ব্লাড বাইরে থেকে এসে ফেরিওয়ালার মতন কালেক্ট করে নিয়ে যায় টেস্ট করানোর জন্য। অনিয়মের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কিনা? জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অফকোর্স দায় আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিনের বেলা ব্লাড নেয়, এটা আমাকে প্রশ্ন করা লাগে? দিনের বেলা বাইরে ফেরিওয়ালার মতো এসে ব্লাড নেয়, এটা দায় থাকবে না মানে? অফকোর্স দে আর রেসপনসিবল ফর দ্যাট। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাইরে যত জায়গায় যাচ্ছি, আমি মশারি পাচ্ছি ডেঙ্গু রোগীদের। কিন্তু এখানে দেখি নাই বা অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও তেমন কোনো মশারির ব্যবহার করে না। বাট এটা কিন্তু ম্যান্ডেটরি। এটা আজকে থেকে আরও কঠিনভাবে মনিটর করবো।

রোগীরাও অনেক সময় নিতে চায় না, বাধ্য করতে হবে মশারি নিতে। কারণ আদারওয়াইজ আমার ভালো রোগীগুলো অসুস্থ হয়ে যাবে। এটা এখানে আপনারা ম্যান্ডেটরি করবেন আজকে থেকে মশারির ব্যবহার। মন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, আরও তিন মাস আগে থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিউরের চাইতে প্রিভেনশনের ওপর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা জোর দিয়েছি। এখন সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, আমাদের ডিসি মহোদয়গণ, ইউএনওগণ সমন্বিতভাবে সিভিল সার্জন, ডাক্তারদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আমরা চালাচ্ছি। এমনকি আপনারা জানবেন, আমরা বরিশালে পিরোজপুর জেলায় সুপারি গাছ-তারা বয়স্ক সুপারি গাছ কেটে ফেলে; আধা হাত, এক হাত থেকে যায় গোড়াটা। ওইটার আঁশ যখন পচে যায়- পানি জমে ওটাতে, লার্ভা হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওখান থেকে রিপোর্ট করার পরে সমস্ত গাছ আমরা কাটিয়েছি। বাট আমাদের দেশটা খানাখন্দকে ভর্তি। যত্রতত্র লার্ভার সৃষ্টি হয়। সে লার্ভা মারার জন্য পয়সা খরচ করে ট্যাবলেট ইউজ করতেছি। সিটি করপোরেশন গত তিন মাস যাবৎ স্প্রে করতেছে মশা মারার জন্য। যে কারণে মশা এবার একটু লেটলি এসে আমাদেরকে আক্রমণ করেছে।