রাজধানীর গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিল করেছে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই একযোগে বিভিন্ন জেলায় মিছিল বের করে দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকটি জায়গায় পুলিশ ধাওয়া দিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় তারা। বিভিন্ন জেলার মিছিল থেকে অন্তত ১৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শওকতুল আনাম সোহেলের নেতৃত্বে মিছিল বের করে দলটির নেতাকর্মী।
একই ইস্যুতে পিরোজপুর শহরে ঝটিকা মিছিল করে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নোয়াখালীর মাইজদী প্রধান সড়কে ঝটিকা মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া, গাজীপুরের টঙ্গী, বরিশাল, বাগেরহাট ও নেত্রকোণায় ঝটিকা মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
গুলশানে ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ: জুমার নামাজের পর রাজধানীর গুলশানে ঝটিকা মিছিল করে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিছিল থেকে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি’র গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আব্দুর রহিম (৪৯) ও মো. আরাফাত (২০)। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫০-২০০ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দু’টি রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় তারা পাঁচটি তাজা ককটেল ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উত্তরায় মিছিলের প্রস্তুতির সময় গ্রেপ্তার ৪: বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা থেকে মিছিলের প্রস্তুতির সময় ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের আরও চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। ডিএমপি’র গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জুনায়েদ মৃধা (১৯), রাকিবুল হাসান (২৩), সাজ্জাদ হোসেন (১৯) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৯)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের নিচে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে মিছিলের একটি ব্যানার জব্দ করা হয়।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে ছাত্রলীগের মিছিল: ভোরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’- ব্যানারে মিছিল করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে ‘রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার’ এবং ‘শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয়া চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়। মিছিলে ব্যবহৃত পোস্টারে শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি দেখা যায়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশাল নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের পর সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কবি জীবনানন্দ দাশ সড়কের সামনে থেকে ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’- লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল বের করে তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মিছিল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেছেন, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
নেত্রকোণা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোণায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। কয়েক ঘণ্টা পর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌরব আহমেদ খানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শহরের কালীবাড়ি এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌরব আহমেদ খান। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়। এদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় গৌরব আহমেদ খানের বাসায় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চবি প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সুমন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল জুমার নামাজের পরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। তবে পুলিশের দাবি, মিছিলটি বৃহস্পতিবার ভোরের। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের’ ব্যানারে চবি’র ১ নম্বর গেট এলাকায় মিছিল করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগানও দিতে দেখা যায়। এতে দাবি করা হয়, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবালের নির্দেশে হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সংগঠক মোহাম্মদ হাকিব নয়ন এই মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মিছিলটা বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই সুমন নামে একজনকে আটক করেছি।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, কারাবন্দিদের মুক্তি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শরীয়তপুরে মহাসড়ক আটকে ঝটিকা মিছিল করেছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রায় ২০ মিনিট শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। শুক্রবার দুপুরে জাজিরা উপজেলার বিকেনগর এলাকায় এ মিছিল হয়। পরে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামানের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যানার হাতে নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও দেখা যায়। মিছিল চলাকালে সড়কের উপর অবস্থান নেয়ায় শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
