সিলেটে ইমারত নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। নগরে ইমারত নির্মাণের অনুমোদন এখনো দিয়ে যাচ্ছে সিসিক। সিউক কর্মকর্তারা বলছেন, এটি আইনসঙ্গত নয়। সিউক কার্যকর হওয়ার পর থেকে সিসিক সেটি করতে পারে না। তবে সিসিক কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ পাননি। ফলে আগের নিয়মেই তারা নগরে নতুন ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছেন। আর সিউক এখনো অনুমোদনের কার্যক্রম শুরুও করেনি বলে জানান তারা। সিসিকের বর্তমান প্রশাসক জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। আর সিউকের চেয়ারম্যান নগর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সিলেটে সিউক নতুন সংগঠন। বিগত সরকারের সময় সেটি গঠন করা হলেও কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কয়েস লোদীকে দায়িত্ব দেয়ার পর সেটি কার্যকর হতে শুরু করেছে। নগরের ধোপাদীঘিরপাড়ে অস্থায়ী কার্যালয়ে শুরু হয়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এরইমধ্যে কয়েস লোদী অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
তবে এখনো ইমারত নির্মাণের অনুমোদন পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই অবস্থায় সিউকের চেয়ারম্যান ইমারত অনুমোদন সংক্রান্ত পরপর দু’টি বক্তব্য দিয়েছে। দু’টি বক্তব্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। সিউক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গৃহায়ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে সিলেট সিটি করপোরেশনকে ইমারত সংক্রান্ত অনুমোদনের কার্যক্রম না চালানো, একইসঙ্গে অনুমোদনের জন্য জমা থাকা ফাইলপত্র সিউকের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেয়া হয়। সেই আদেশ সিউক থেকে সিটি করপোরেশনে প্রেরণ করা হলে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সে আদেশ না হওয়ার কারণে তারা সেটি আমলে নেননি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একইভাবে আদেশ প্রদান করা হলেও সিটি করপোরেশন বিষয়টিকে কার্যকর করেনি। চিঠি চালাচালির মধ্যেও সিটি করপোরেশন নতুন করে ইমারত নির্মাণের অনুমোদনের ফাইলপত্র ব্যাকডেটে জমা নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টিকে ঝুলন্ত রেখে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাত্র ৩ দিনে ৭২৩ টি ইমারত নির্মাণের ফাইলের অনুমোদন দিয়েছে। যা নজিরবিহীন। সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিউক বর্তমানে ইমারত নির্মাণের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নাম তালিকাভুক্তির আহ্বান করেছে। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেটি করা হয়েছে। খুব শিগগিরই অনুমোদনের কাজও শুরু হবে। এই অবস্থায় সিটি করপোরেশন নতুন করে ইমারত নির্মাণ ফাইলের অনুমোদন দিচ্ছে। এতে প্রশ্ন দাঁড়ালো এখন যারা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ইমারত নির্মাণের জন্য অনুমোদন নিচ্ছেন সেই কাজগুলোর তদারকি করবে কে? যদি ভবিষ্যতে সেটি সিউক তদারকি করতে হয় তাহলে দাপ্তরিক জটিলতা দেখা দেবে।
নতুন করে হয়তো অনুমোদনের প্রয়োজন পড়তে পারে। তিনি বলেন, এরইমধ্যে চিঠি চালাচালি শুরু হয়েছে। সিউকের কাছে সমঝে দেয়ার আদেশও আছে। তা না করে যা করা হচ্ছে সেটি আইনসিদ্ধ কী না- এ নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে বলে জানান। এদিকে বিষয়টি নিয়ে সিউকের এমন অভিযোগে প্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর স্পষ্ট জবাব। সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রক হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এখনো তাদের কাছে মন্ত্রণালয়ের কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি। এ কারণে পূর্বের নিয়মেই সিটি করপোরেশন ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। অন্য কোনো মন্ত্রণালয় থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হলে সেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ ছাড়া পালন করা সম্ভব নয়।
প্রশাসক জানিয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ইমারত নির্মাণের অনুমোদন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটি তিনদিনে ৭২৩ জন গত দুই মাসে ইমারত নির্মাণ সংক্রান্ত প্রায় ৯০০ ফাইল অনুমোদন দিয়েছে। আইনের ভেতরে থেকেই এসব কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রশাসক জানান, উন্নয়ন করপোরেশনের কাছে ফাইল বা কার্যক্রম হস্তান্তর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্বান্তের বিষয়। এ ধরনের সিদ্বান্ত এলে অবশ্যই সিটি করপোরেশন সেটি কার্যকর করবে। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে জানান প্রশাসক।
