কুমিল্লায় নির্মাণকাজে বাধা দেয়ার পর মারধর-হত্যার হুমকি

কুমিল্লায় নির্মাণকাজে বাধা দেয়ার পর মারধর-হত্যার হুমকি

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কচুয়া মৌজা ও আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় নির্মাণকাজে বাধা, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়া, মারধর, বাসায় ঢুকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৪৮) ও সুমন মিয়া (৪৩) নামে দুই ব্যক্তি সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কচুয়া মৌজায় ছয়তলা ভবন নির্মাণকাজে বাধা, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মো. জুয়েল ওরফে মামুন (৩৩), মো. মহিন (৩৩) ও হাসান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর ফের হামলা, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ করেছেন প্রবাসী নজরুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ই সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কচুয়া মৌজায় নজরুল ইসলামের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখান। এর আগে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার দিন নির্মাণ শ্রমিক আজাদকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য শ্রমিকদের মারধর করার অভিযোগও করা হয়েছে।

নজরুল ইসলামের দাবি, তিনি প্রবাসে থাকায় তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি দেশে ফিরলে তার কাছ থেকেও যেকোনো উপায়ে টাকা আদায়ের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, একই এলাকা কচুয়া চৌমুহনীতে ভাড়া বাসায় ঢুকে মাছ ব্যবসায়ী সুমন মিয়ার কাছ থেকে নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মহিন ও নোমান (৩০) নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সুমন মিয়ার অভিযোগ, গত ১০ই সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে চৌয়ারা বাজার বিশ্বরোড থেকে মাছ বিক্রি শেষে তিনি কচুয়া চৌমুহনী এলাকার ভাড়া বাসায় ফেরেন। এ সময় ফুল মিয়ার ছেলে মহিন ও কামাল হোসেনের ছেলে নোমান তার বাসার দরজায় এসে দরজা খুলতে বলেন।

দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করেন সুমন। একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাছ বিক্রির টাকা থেকে নগদ ৫২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়টি বাড়ির মালিক কাজী মজিবুর রহমানকে জানালে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে বাড়ির মালিক কাজী মজিবুর রহমান ও ইদ্রিস আলীকে সঙ্গে নিয়ে কাজীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্তদের একজনকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন সুমন। এ সময় ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা, কালশিরা ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নেন সুমন।

সুমন মিয়া আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের ভয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। পাশাপাশি প্রথম ঘটনার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুটি ঘটনায়ই ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলো তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন এসআই রাজিব বলেন, “আমরা এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।