খিলগাঁওয়ের পরকীয়ার জেরে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানি খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় মো. জজ মিয়া (৪৪) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আবদুল্লাহ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, পরকীয়ার জেরে হত্যা করা হয় জজ মিয়াকে। গতকাল খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে এসব তথ্য জানান। নিহত জজ মিয়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৯ই সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জিরানি খাল থেকে জজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। গত ৮ই সেপ্টেম্বর মেরুল বাড্ডা এলাকার একটি গ্যারেজে হত্যার শিকার হন তিনি। সেখান থেকে লাশ নিয়ে এসে জিরানি খালে ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ বলছে, ৮ই সেপ্টেম্বর জজ মিয়া খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হন। দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মেরুল বাড্ডার মিন্টুর গ্যারেজে যান।

সেখানে আগে থেকেই আবদুল্লাহসহ অন্য ব্যক্তিরা অবস্থান করছিলেন। এরপর নষ্ট একটি বাসের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তারা ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে জজ মিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তার মরদেহ জিরানি খালে ফেলে দেন। এ ঘটনায় জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো. আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, জজ মিয়া তার এক সহযোগীর স্ত্রী’র সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর জেরে তাকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবদুল্লাহকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।